Translate

Showing posts with label কবিতা. Show all posts
Showing posts with label কবিতা. Show all posts

কেন খুঁজি তাহারে

Monday, May 16, 2016

0 মন্তব্য(গুলি)

————————————————–
এই বার্লি গ্রিফিন
দীঘির পাড়ে
আমি আসিগো ফিরে বারে বারে,
প্রিয়াকে হারানোর
বেদনা বিষাদে
বুক ফেটে যায় আজ হাহকারে ।

এই অশান্ত হৃদয়ের
নীরব আধারে
আমি যেন হারিয়েছি কাহারে,
সেই স্বপ্ন হারিয়ে
স্মৃতির মিনারে
আজ কেন খুঁজে ফিরি তাহারে ?

নিশ্চল মনোরম
স্বপ্ন বিজড়িত এই
শান্ত বার্লি গ্রিফিন দীঘির পাড়ে,
নিভৃতে আনমনে
আমার মন শুধু
তোমায় খুঁজে ফিরে বারে বারে ।

অদ্ভুত অপূর্ব এক
স্বপ্ন সেদিন তুমি
একান্তে উপহার দিয়েছিলে মোরে,
নিস্পন্দ চেতনায়
জোনাকির মত
জ্বলে তা এক কুহেলিকার ঘোরে ।

স্বপ্ন

1 মন্তব্য(গুলি)

,

আমি তোমাকে ভুলতে চাই ৷

তোমার গোলাপ পাঁপড়ির ঠোঁট—

বরফ সাদা রঙ—

ভ্রমর কালো চোখ—

ভূবন মোহিনী হাসি— আমাকে পোড়ায় ৷

তোমার আগুন ঢালা রূপের টানে

যতই তোমার কাছে যাই ,

ততই রক্তাক্ত হয় আমার কোমল হৃদয় ৷

তুমি তো ধনীর দুলালী

হবে ধনবানের অন্তঃপুরবাসিনী ৷

দুঃখ দারিদ্র্য তোমাকে উঁকিমেরেও

দেখতে পায়নি কোনোদিন—

পাবেওনা (আশা করি) ৷

আমার ভেসে যাওয়া

উচ্ছল অসচ্ছলতার কূলপ্লাবি স্রোতে ৷

অনটন অনবরত আমার ভাগ্যকে দেয়

শঙ্খচূড়ের চুম্বন ৷

আমার আশার ডালে ডালে

ধরে রয়েছে সব পেয়েছির ডুমুর ফুল— ৷

এর মাঝে তোমাকে কোথায় রাখি ?

ভাবনা নিয়ে মরিস কেন খেপে

Monday, March 28, 2016

0 মন্তব্য(গুলি)
ভাবনা নিয়ে মরিস কেন খেপে।
          দুঃখ-সুখের লীলা
     ভাবিস এ কি রইবে বক্ষে চেপে
          জগদ্দলন-শিলা।
     চলেছিস রে চলাচলের পথে
     কোন্‌ সারথির উধাও মনোরথে?
     নিমেষতরে যুগে যুগান্তরে
          দিবে না রাশ-ঢিলা।

     শিশু হয়ে এলি মায়ের কোলে,
          সেদিন গেল ভেসে।
     যৌবনেরি বিষম দোলার দোলে
          কাটল কেঁদে হেসে।
     রাত্রে যখন হচ্ছিল দীপ জ্বালা
     কোথায় ছিল আজকে দিনের পালা।
     আবার কবে কী সুর বাঁধা হবে
          আজকে পালার শেষে।

     চলতে যাদের হবে চিরকালই
          নাইকো তাদের ভার।
     কোথা তাদের রইবে থলি-থালি,
          কোথা বা সংসার।
     দেহযাত্রা মেঘের খেয়া বাওয়া,
     মন তাহাদের ঘূর্ণা-পাকের হাওয়া;
     বেঁকে বেঁকে আকার এঁকে এঁকে
          চলছে নিরাকার।

     ওরে পথিক, ধর্‌-না চলার গান,
          বাজা রে একতারা।
     এই খুশিতেই মেতে উঠুক প্রাণ--
          নাইকো কূল-কিনারা।
     পায়ে পায়ে পথের ধারে ধারে
     কান্না-হাসির ফুল ফুটিয়ে যা রে,
     প্রাণ-বসন্তে তুই-যে দখিন হাওয়া
          গৃহ-বাঁধন-হারা!

     এই জনমের এই রূপের এই খেলা
          এবার করি শেষ;
     সন্ধ্যা হল, ফুরিয়ে এল বেলা,
          বদল করি বেশ।
     যাবার কালে মুখ ফিরিয়ে পিছু
     কান্না আমার ছড়িয়ে যাব কিছু,
     সামনে সে-ও প্রেমের কাঁদন ভরা
          চির-নিরুদ্দেশ।

     বঁধুর চিঠি মধুর হয়ে আছে
          সেই অজানার দেশে।
     প্রাণের ঢেউ সে এমনি করেই নাচে
          এমনি ভালোবেসে।
     সেখানেতে আবার সে কোন্‌ দূরে
     আলোর বাঁশি বাজবে গো এই সুরে
     কোন্‌ মুখেতে সেই অচেনা ফুল
          ফুটবে আবার হেসে।

     এইখানে এক শিশির-ভরা প্রাতে
          মেলেছিলেম প্রাণ।
     এইখানে এক বীণা নিয়ে হাতে
          সেধেছিলেম তান।
     এতকালের সে মোর বীণাখানি
     এইখানেতেই ফেলে যাব জানি,
     কিন্তু ওরে হিয়ার মধ্যে ভরি
          নেব যে তার গান।

     সে-গান আমি শোনাব যার কাছে
          নূতন আলোর তীরে,
     চিরদিন সে সাথে সাথে আছে
          আমার ভুবন ঘিরে।
     শরতে সে শিউলি-বনের তলে
     ফুলের গন্ধে ঘোমটা টেনে চলে,
     ফাল্গুনে তার বরণমালাখানি
          পরাল মোর শিরে।

     পথের বাঁকে হঠাৎ দেয় সে দেখা
          শুধু নিমেষতরে।
     সন্ধ্যা-আলোয় রয় সে বসে একা
          উদাস প্রান্তরে।
     এমনি করেই তার সে আসা-যাওয়া,
     এমনি করেই বেদন-ভরা হাওয়া
     হৃদয়-বনে বইয়ে সে যায় চলে
          মর্মরে মর্মরে।

     জোয়ার-ভাঁটার নিত্য চলাচলে
          তার এই আনাগোনা।
     আধেক হাসি আধেক চোখের জলে
          মোদের চেনাশোনা।
     তারে নিয়ে হল না ঘর বাঁধা,
     পথে পথেই নিত্য তারে সাধা
     এমনি করেই আসা-যাওয়ার ডোরে
          প্রেমেরি জাল-বোনা।


শান্তিনিকেতন, ২৯ ফাল্গুন, ১৩২২