Translate

ইহূদীদের ষড়যন্ত্রের শিকার ড. আফিয়া সিদ্দিকা -২

Sunday, May 8, 2016

0 মন্তব্য(গুলি)

ইহূদীদের একটি ঘৃন্য ষড়যন্ত্রের শিকার ড. আফিয়া সিদ্দিকা যিনি আন্তর্জাতিক খ্যাতি সম্পন্ন স্নায়ু বিজ্ঞানী। অসামান্য ধীসম্পন্ন পি.এইচ.ডি ডিগ্রীধারী এ মহিলার সম্মানসূচক অন্যান্য ডিগ্রী ও সার্টিফিকেট রয়েছে প্রায় ১৪৪টি। যুক্তরাষ্ট্রের ব্রন্ডেইস বিশ্ববিদ্যালয় তাঁকে Neurology বিষয়ে ডক্টরেট ডিগ্রী প্রদান করে। আফিয়া যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসাচুসেটস প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নায়ু বিজ্ঞানে পড়ালেখা ও উচ্চতর গবেষণা করেন। তিনি হাফিযে কু র‘আন ও আলিমা। পবিত্র কুর‘আন ও হাদীসে পারদর্শিনী এ মহিলা ব্যক্তিগত জীবনে অত্যন্ত দ্বীনদার ও পরহেযগার। ইসলামী আদর্শ, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির প্রতি রয়েছে তাঁর স্ট্রং কমিটমেন্ট। মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা এফ.বি.আই পাকিস্তানী কর্তৃপক্ষের সহযোগিতায় আল কায়েদার সঙ্গে যোগাযোগ থাকার কথিত অভিযোগে এবং পাকিস্তান সরকারের প্রকাশ্য সহযোগীতায় ২০০৩ সালে ড. আফিয়াকে তাঁর তিন সন্তান আহমদ, সুলায়মান, ও মরিয়মসহ করাচীর রাস্তা থেকে অপহরণ করে। পাকিস্তানের কোন কারাগারে না রেখে এবং পাকিস্তানী আদালতে উপস্থাপন না করে তাঁকে আফগানিস্তানের বাগরাম সামরিক ঘাঁটিতে বন্দী করে রাখা হয়। এরপর চলে তাঁর উপর অমানুষিক শারীরিক, মানসিক ও যৌন নির্যাতন। বাগরামে কুখ্যাত মার্কিন কারাগার থেকে মুক্তি পাওয়া ব্যক্তিরা বলেছেন, ‘নির্যাতনের সময় একজন নারী বন্দির আর্তচিৎকার অন্য বন্দিদের সহ্য করাও কষ্টকর ছিল। ওই নারীর ওপর নির্যাতন বন্ধ করতে অন্য বন্দিরা অনশন পর্যন্ত করেছিল।
পরবর্তী সময়ে তাঁকে স্থানান্তরিত করা হয় নিউইয়র্কের এক গোপন কারাগারে। তাঁকে পুরুষদের সাথে ওই কারাগারে বন্দী। কারাবন্দী নং ৬৫০। অব্যাহত নির্যাতনের ধকল সইতে না পেরে তিনি মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলেন। প্রথম থেকেই তিন সন্তানকে তাঁর থেকে পৃথক রাখা হয়। তিনি জানেন না তাঁর সন্তানত্রয় কোথায় ? তারা বেঁচে আছেন কিনা। পাকিস্তানের তেহরিক-ই-ইনসাফ দলের চেয়ারম্যান ও সাবেক ক্রিকেটার ইমরান খান দাবী করে বলেন তাঁর দু’সন্তান ইতোমধ্যে মার্কিন নিয়ন্ত্রিত আফগান কারাগারে অত্যাচারে মারা গেছে। তিনি আরো বলেন, পাকিস্তানি কর্তৃপক্ষের মধ্যে যারা ড. আফিয়াকে যুক্তরাষ্ট্র সরকারের হাতে তুলে দিয়েছেন, তাঁদের অবশ্যই বিচারের মুখোমুখি করতে হবে।
ড. আফিয়ার বিরুদ্ধে অভিযোগকারীর বক্তব্য হলো, তাঁকে গ্রেপ্তারের সময় তাঁর সঙ্গে থাকা হাতব্যাগ তল্লাশী করে মার্কিন স্থাপনায় হামলার পরিকল্পনা সম্বলিত কাগজপত্র, গজনীর মানচিত্র, রাসায়নিক অস্ত্র তৈরীর নিয়মাবলী ও রেডিওলজিক্যাল এজেন্ট সম্পর্কিত তথ্য পাওয়া যায়। ব্রিটেনের দি ইন্ডিপেন্টেডেন্ট পত্রিকার সাংবাদিক রবার্ট ফিস্ক বলে, ‘যুক্তরাষ্ট্রের ব্রন্ডেইস বিশ্ববিদ্যালয়ের পিএইচডি ডিগ্রীধারী একজন পাকিস্তানী-আমেরিকান তাঁর হাত-ব্যাগে করে মার্কিন স্থাপনায় হামলার পরিকল্পনা নিয়ে ঘুরছেন, এটি কতটুকু বিশ্বাসযোগ্য?
নিউইয়র্কে আদালতে ১২ সদস্যের জুরি বোর্ড নানা আইনি বিষয় পর্যালোচনা করে এবং সর্বসম্মতভাবে আফিয়াকে দোষী সাব্যস্ত করেছে। হত্যা চেষ্টা ও লাঞ্ছিত করাসহ সাতটি অভিযোগে তাকে ২০ বছরের করাদণ্ড প্রদান করা হয়। গোপন কারাগারে তিন বছর তিনি বন্দি জীবন কাটিয়েছেন। রায় ঘোষণার পর আফিয়া আদালতে চিৎকার করে বলেন, ‘আমেরিকা নয়, ইসরাইল থেকে এসেছে এ রায়।’ তিনি আগেই বলেছিলেন, কোনো ইহুদি বিচারক থাকলে তিনি (আফিয়া) ন্যায়বিচার পাবেন না। সরকারি আইনজীবীরা আদালতে বলেন, পাকিস্তানি পরমাণু বিজ্ঞানী বোমা তৈরির নির্দেশিকা বহন করেছিলেন। তাঁকে নিউইয়র্কের একটি আদালত মার্কিন গোয়েন্দা ও সামরিক কর্মকর্তাদের হত্যা চেষ্টার দায়ে ড. আফিয়া সিদ্দিকাকে ৮৬ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছিল।
ড. আফিয়া সিদ্দিকা যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চশিক্ষা লাভ করেন এবং ২০০২ সাল পর্যন্ত সেখানেই বসবাস করেন। যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকালে তাঁকে যারা চিনতেন তাদের সবাই বলেছেন, আফিয়া অত্যন্ত ভদ্র এবং ইসলামের প্রতি তার বিশেষ দরদ ছিল। ২০০৩ সালে করাচি থেকে তিন সন্তানসহ গোয়েন্দা সংস্থার লোকেরা তাদের অপহরণ করে। এরপর আফগানিস্তানের বাগরাম কারাগারে গোপনে তাকে আটকে রাখা হচ্ছিল বলেও অভিযোগ রয়েছে। এ নিয়ে তখন অনেক মাতামাতি হলেও ২০০৮ সালে গজনীতে ওই গুলির ঘটনার আগে গণমাধ্যমে আর তাঁর নাম শোনা যায়নি। নিউইয়র্কের আদালতে কেবল গজনীর ওই ঘটনারই বিচার হয়েছে। তাঁকে অপহরণ বা বাগরামে আটকে রাখা সংক্রান্ত অভিযোগের কোনো তদন্ত হয়নি। আফিয়া সিদ্দিকির বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবাদের কোনো অভিযোগ আনা হয়নি। যদিও মার্কিন কর্মকর্তারা এর আগে বিভিন্ন সময়ে আল-কায়েদাকে অর্থায়ন এবং যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে হামলা পরিকল্পনার কথা বলে এসেছে। তাঁর আইনজীবী অভিযোগ করেছেন, আফিয়ার বিচার প্রক্রিয়ায় দ্বৈতনীতি অনুসরণ করেছে মার্কিন প্রশাসন।

ভারতে মুসলিম নির্যাতন ও গণহত্যার নির্মম সত্য ইতিহাস

0 মন্তব্য(গুলি)

কিছু কষ্টের কথা কখনো ভুলা যায় না ! প্রায়
৩০০০ হাজার বছর আগে ফিরাউন, মুসা (আঃ)
কে হত্যার উদ্দেশ্যে ঐ সময় মায়ের পেট
থেকে সদ্য জন্ম নেয়া সব শিশুদের হত্যা করে
যে নারকীয়তার সৃষ্টি করেছিল তা মানুষ
আজও ভুলে নি।
ফিরাউন জন্ম নেয়ার পর শিশুদের হত্যা
করেছিল। কিন্তু এই আধুনিক যুগের অসভ্য বর্বর
উগ্র ভারতীয় হিন্দুরা সেই ফিরাউনকেও হার
মানিয়েছে। ভারতে মুসলিম শিশুরা মায়ের
পেটের ভেতর ও নিরাপদ না। শুধু শিশু কেন
মুসলিম নারীরাই ভারতে সবচেয়ে অনিরাপদ!
গুজরাট, ভারতের সর্বপশ্চিমে অবস্থিত একটি
রাজ্য। আসুন,দেখা যাক কি হয়েছিল এখানে!
মুসলিম গণহত্যার ষড়যন্ত্রঃ
ঘটনার সূত্রপাত ২০০২ এর ২৭ ফেব্রুয়ারি--
গুজরাটের SABARMATI EXPRESS নামে একটি
ট্রেনে হামলায় ভারতের ৫৯ জন মারা যায়।
Wikipedia এর তথ্য অনুসারে ২৫৪ জন। এ ঘটনায়
কোন প্রমাণ ছাড়াই মুসলমানদের দোষী
সাব্যস্ত করা হয়। অথচ  পরবর্তীতে ‘নতুন
নানাভাতি’ তদন্তের রিপোর্টের ভিত্তিতে
বেরিয়ে আসে যে, ভারতের মুসলমানদের উপর
হামলা চালানোর পূর্ব-ষড়যন্ত্র হিসেবেই এ
অগ্নিকান্ডের ঘটনা সাজানো হয়, যা উগ্র
হিন্দু সন্ত্রাসী করেছিল এবং সেটা
মুখ্যমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নির্দেশেই
হয়েছিল। সেটাকেই ছুতো করে
মাসখানেক ধরে সাম্প্রদায়িক উগ্র হিন্দুরা
মুসলিমদের উপর হামলা চালায়। শুরু হয় দাঙ্গা।
সংখ্যা লঘু হওয়াতে মুসলিমদের উপর হিন্দুদের
নির্যাতন মাত্রা ছাড়ায়। নির্যাতনের ধরন সব
যুগের সব বর্বরতাকে হার মানিয়েছে।
মুসলিমদের ব্যাসায়িক প্রতিষ্ঠান,বাড়ি
পুড়িয়ে দেয়া হয়। অধিকাংশ মুসলিমদের
পুরিয়ে মারা হয়েছে। শত শত মুসলিম নারীকে
ধর্ষণ করা হয়েছে। শিশুদেরকেও তারা ছাড়
দেয়নি। প্রায় লাখখানেক মুসলিম তাদের
বাড়ি ঘর ছেরে পালিয়ে যায়। এই নির্যাতনে
RSS সহ হিন্দু উগ্র সন্ত্রাসীরা অংশ নেয়।
গুজরাটে মুসলিম গণহত্যার নির্মমতাঃ
বাবুভাই প্যাটেল, সকলের কাছে পরিচিত
উপনাম বাবু বজরঙ্গি হিসেবে।
গুজরাটে মুসলিম হত্যাকান্ডের অন্যতম এই
নরপশু এমনই এক বর্বর পিশাচ যে কিনা মায়ের
পেট থেকে ৯ মাসের ফিটাসকে (ভুমিষ্ট
হওয়ার আগপর্যন্ত শিশুদের ফিটাস বলে)
মায়ের পেট কেটে বের করে আগুনে পুরিয়ে
দিয়েছিল।! ভাবছেন এটা কি করে সম্ভব?
হ্যাঁ, এটা এই পশু সম্ভব করেছে। কাউসার বানু
নামের এক ৯ মাসের গর্ভবতী মহিলার পেট
কেটে এই শয়তান তার জম্ন না নেয়া শিশুকে
আগুনে পুরিয়ে দেয়। সে প্রথমে ঐ মাকে
ধাক্কা দিয়ে ফেলে দিয়ে ছুরির ফলা দিয়ে
তার পেট কেটে ফেলে। তারপর তার
ফিটাসকে বের করে আগুনে ছুরে ফেলেদেয়।
তীব্র মুসলিম বিরোধী এই নরাধমের ইচ্ছা
ভারত থেকে মুসলিমদের সম্পূর্ণ ধবংস করে
দেয়া।
তেহেলকার ম্যাগাজিনের এক সাংবাদিক
২০০৭ সালে গোপন ক্যামেরার মাধ্যমে তার
একটি সাক্ষাৎকার ধারন করে। ২০০২ সালে
গুজরাট দাঙ্গার সময় 'নারোদা পাতিয়া
গণহত্যা' (আহমেদাবাদ এলাকায়) চালাতে
সে কিভাবে হিন্দুদের সংঘবদ্ধ করেছিল,
সেই ঐতিহাসিক সাক্ষৎকারে হিন্দুত্ববাদী
বাজরাঙ্গি অতি আনন্দের সাথে তা বর্ণনা
করে। বর্ণনা করে কিভাবে সে ও তার
সাঙ্গপাঙ্গরা বহু মুসলমানকে আগুনে পুড়িয়ে
ও তরোয়ালে কেটে হত্যা করে। সেই
ঐতিহাসিক সাক্ষৎকারের কিছু অংশ অনুবাদ
করে দেয়া হল-
"কেটে টুকরা করা, পুড়িয়ে দেয়া, আগুন
ধরানো অনেক কিছুই করা হল, অনেক কিছুই।
আসলে আমরা মুসলমানদের আগুনে পুড়াতেই
বেশি পছন্দ করি, কারণ এই জারজরা তাদের
দেহ মৃত্যুর পর চিতায় পুড়াতে চায় না।"
আমার শুধু একটি ইচ্ছা,......শুধু একটি শেষ
ইচ্ছা...... আমাকে মৃত্যুদন্ড দেয়া
হোক,.......আমাকে ফাঁসিতে ঝুলানো হলেও
তা গ্রাহ্য করব না.........তবে আমাকে
ফাঁসিতে দেওয়ার আগে মাত্র দুইদিন সময়
দেয়া হোক, আমি জুহাপুরা (মুসলিম অধ্যুষিত
এলাকা)য় চলে যাব। সেখানে ৭-৮ লক্ষ লোক
বাস করে। আমি তাদের শেষ করব........কমকরে
হলেও তো সেখানে আমার ২৫-৫০ হাজার
মুসলমানকে হত্যা করা উচিত।"
গণহত্যার পর থানায় মামলার নথিতে লেখা
হয়, এক গর্ভবতী মুসলিম মহিলার পেট চিরে
আমি ৯ মাসের ভ্রনকে বের করেছি, নিক্ষেপ
করেছি আগুনে।
গণহত্যার পর থানায় মামলার নথিতে লেখা
হয়, এক গর্ভবতী মুসলিম মহিলার পেট চিরে
আমি ৯ মাসের ভ্রনকে বের করেছি, নিক্ষেপ
করেছি আগুনে।
আসলে আমি তাদেরকে দেখিয়েছি, দেখ!
আমাদের বিরোধীতার শাস্তি কি।
একজনকেও ছাড়া যাবে না। এমনি তোদের
ভূমিষ্ট হতেও দেয়া যাবে না। আমি বলেছি,
যদি মহিলাও হয়....., যদি শিশু হয় তবু তাদের
কেটে ফেল.....চিড়ে ফেল..........টুকরো করে
ফেল......আগুনে পুড়াও সকল মুসলমানদের।
আমাদের অনেকে তাদের ঘরবাড়ি লুট করতে
অযথা সময় নষ্ট করছিল। আমি বলেছি, অযথা
এ কাজ না করে তাদের কাউকে বাঁচতে দিও
না, এরপর সবই তো আমাদের। আমরা দল বেধে
বেধে মুসলমানদের ঘরে ঘরে ঘুরছিলাম।
প্রত্যেকেই মুসলমান মারছিল অতি উন্মাদনার
সাথে।...আমরা এসআরপি (স্টেট রিজার্ভ
পুলিশ ফোর্স) ক্যাম্পের পাশেই এই গণহত্যা
চালাই।...আসলেএকসাথে"মুসলমান মারতে
এত্ত মজা লাগে না....সাহেব, আসলে তাদের
মারার পর আমার নিজেকে রানা প্রতাপ বা
মহেন্দ্র প্রতাপের মত (মুসলিম নিধনকারী
রাজা) মত মনে হয়েছে। এতদিন শুধু তাদের
নাম শুনেছি, কিন্তু সেই দিন আমি তাই
করলাম....."
এই জানোয়ারের সাক্ষৎকারের লিংকঃ
http://archive.tehelka.com/story_main35.asp?
filename=Ne031107After_killing.asp
এটা ছিল একটি অপকর্মের নমুনা মাত্র। এ
ছাড়াও শত শত মুসলিম নারীদেরকে ধর্ষণ
করার পর আগুনে পুরিয়ে হত্যা করা হয়েছিল ।
মুসলিমদের বাড়িতে গিয়ে পরিবারের অন্য
সদস্যদের সামনে মুসলিম নারীদের ধর্ষণ করা
হয়েছে। তারপর তাদের পুড়িয়ে মারা হয়েছে।
ভাবুন সেই বিভীষিকার কথা যেখনে আপনার
সামনে আপনার বোনের সম্মান লুন্ঠিত হচ্ছে।
তকে শত শত উগ্র হিন্দু তদের মাঝে নিয়ে
বিবস্ত্র করে তাকে অপমান করছে অথচ
আপনি কিছু করতে পারছেন না।মুসলিম
প্রতিটা নারী কি আমাদের মা অথবা বোন
না?
একটি তথ্য অনুযায়ী ভারতের গুজরাট রাজ্যে
২০০২ সালে মুসলিম বিরোধী এই দাঙ্গায়
অন্ততঃ ৫০০০ মুসলমান শহীদ(ইনশাআল্লাহ)
হয়েছিলেন।
গুজরাট দাঙ্গায় দাঙ্গাকারীদের না
ঠেকাতে মুখ্যমন্ত্রী নরেন্দ্রমোদি পুলিশকে
নির্দেশ দিয়েছিল। এক পুলিশকর্মীর
জবানবন্দী, মুসলিমদের বাঁচানোর জন্য
আমাদের কোনো নির্দেশই ছিল না। ২০০২
সালের দাঙ্গার সময় মুসলিম মহিলারা
পুলিশের কাছে তাদের ইজ্জত রক্ষার
আবেদন জানালে পুলিশ বলেছিল,
'তোমাদেরকে তো শেষমেষ মেরেই ফেলবে।
তার আগে ইজ্জত থাকলো কি চলে গেল
তাতে কি?' এমনকি তলোয়ার হাতে
দাঙ্গাকারীরা গর্ভবতী মুসলিম নারীদের
পেট ফেঁড়ে ভ্রুণ বের করে তা তরবারি'র
আগায় বিদ্ধ করে নারকীয় উল্লাস প্রকাশ
করেছে বলেও সে সময় গণমাধ্যমে খবর
বেরিয়েছিল।
উগ্র হিন্দুত্ববাদীরা ঐ দাঙ্গায় অন্ততঃ ৪০০
মুসলিম মহিলাকে ধর্ষণ করেছে ।কয়েকশ
মুসলিম মেয়ে এবং মহিলাকে হরণ এবং টেনে
নিয়েতাদের পরিবারের সামনেই তদের
বিবস্ত্র করা হয়, কয়েকশ হিন্দু নরপশু তাদের
নোংরা কথা বলে অবমাননা করে, ভয় দেখায়
ধর্ষণ ও খুনের। তারা তাদের ধর্ষণ ও গনধর্ষণ
করে, লাঠি, ছুরি ইত্যাদি দিয়ে আগাত করে।
তদের স্তন কেটে দেয়া হয়, জরায়ু কেটে
দেয়া হয় এবং তাদের যোনি পথে মারাক্তক
ভাবে কাঠের রড প্রবেশ করানো হয়। তদের
অধিকাংশকেই টুকরো টুকরো কেটে ফেলা
হয় অথবা আগুনে পুরিয়া মারা হয়। এই
আক্রমের বেশি শিকার হয় তরুণী, বৃদ্ধা
শিশুরা। ২৫০-৩০০ নারীকে খুন করা হয়। খুনের
আগে তাদের অনেককেই ধর্ষণ অথবা গনধর্ষণ
করা হয়।
উগ্রবাদী হিন্দু সন্ত্রাসীরা ৫৬৩ টি মসজিদ
ভেঙে গুড়িয়ে দিয়েছিল। তাছাড়া ঐ
দাঙ্গায় আড়াই লক্ষ মানুষকে গৃহহীন হতে হয় ।
বেসরকারী সংস্থাটি বলেছে, ধ্বংসলীলায়
ক্ষতির পরিমাণ তিন হাজার আট শ কোটি
টাকা ।  ঐ মানবাধিকার সংস্থার প্রধান
তীর্থ শুক্লাবাদ বলেছেন, গুজরাটের রাজ্য
সরকার দুর্গত ৫ হাজার মুসলিম পরিবারের
জন্য কিছুই করছে না । এসব দুর্গত পরিবার
গুলোর ত্রানের ব্যবস্থা করছে বেসরকারী
সংস্থাগুলো । অসহায় মুসলিম পরিবারগুলো
কোন ক্ষতিপূরণ পাচ্ছে না বলেও জানা
গেছে । তাছাড়া গুজরাট রাজ্য সরকারের
কারণে অপরাধীরা কোনরকম শাস্তি
পাচ্ছেনা । মানবাধিকার সংস্থাগুলো
গুজরাট দাঙ্গায় ক্ষতিগ্রস্ত ৬ হাজার মুসলিম
পরিবার ত্রান শিবিরগুলোতে মানবেতর
জীবনযাপন করছে বলে অভিযোগ করেছে ।
রাজনীতিবিদরা ঐ সব ক্ষতিগ্রস্তদের নিয়ে
নানা রকম ব্যাখ্যা বিশ্লেষণ করছে, তাদের
নানাভাবে ব্যবহার করছে তবে তাদের
অবস্থার কোন পরিবর্তন হয়নি।
মুসলমান বিরোধী দাঙ্গা চলাকালে
গুজরাটের প্রধান নগরী আহমেদাবাদের
একটি আবাসিক এলাকায় ২০০২ সালের ২৮
ফেব্রুয়ারি গুলবার্গ হাউজিং সোসাইটি
গণহত্যার শিকার হন সাবেক কংগ্রেস
সাংসদ এহসান জাফরি-সহ ৬৯ জন সংখ্যালঘু
সম্প্রদায়ের মানুষ। তাদের জীবন্ত পুড়িয়ে
শহীদ করা হয়। ২০০২ সালের ১ মার্চ ওডি
গ্রামে মুসলমানদের প্রায় ২০ বাড়িতে হামলা
চালায় তারা। ওই এলাকার বেশ কয়েকটি
বাড়ির বাসিন্দা একটি তিনতলা বাড়িতে
আশ্রয় নেন। তাতে আগুন ধরিয়ে দেয়া হলে ২৩
জনের প্রাণহানি হয়। ৩ ঘণ্টা তাণ্ডবের পর
সেখান থেকে মাত্র দু’টি লাশ উদ্ধার করা
হয়। নিহতদের মধ্যে ছিল নয়টি শিশু ও নয়জন
নারী। পরিবারের ১৩ সদস্য হারিয়েছিলেন
মজিদ মিয়া। তিনি বলেন, বাড়ি আক্রান্ত
হওয়ার খবর পেয়ে মাঠ থেকে আমি দ্রুত
ফিরে এসে দেখি আগুন জ্বলছে। আমি আমার
পরিবারের সদস্যদের উদ্ধারের চেষ্টা করি।
কিন্তু  ততক্ষণে সব শেষ। তার চাচাতো ভাই
শফিক মোহাম্মদ স্ত্রী ও দুই সন্তান হারান।
গত ১০ বছরে মজিদ ও শফিক কয়েকবার
নিজেদের পুড়ে যাওয়া বাড়ি পরিদর্শন
করেন। কিন' তাদের মর্মযাতনা কখনো
কমেনি। আদালতের রায় হওয়ার আগে মজিদ
শুধু বলতে থাকেন, আমরা ন্যায়বিচার চাই।
ন্যায়বিচার ছাড়া আর কিছুই চাই না। নগর-
সভ্যতার ছোঁয়া বাঁচিয়ে গুজরাটের দাহোদ
জেলার দেবগড় বারিয়ার এই মহল্লায় নেই
কোনো নিকাশি,নেই কোনো রাস্তা, পানি
সরবরাহ। কাছাকাছি নেই কোনো ভালো
স্কুল, হাসপাতাল। বেঁচে থাকাটাই এখন বড়
দায়। আর তাই হয়তো এখানে কোনোমতে
মাথা গুঁজে থাকা পৌনে পাঁচশ' মানুষ
কোনোভাবেই এগুলোকে নিজের ঘর বলতে
চান না। অথচ গত ছ'বছর ধরে এই মানুষগুলোকে
এখানেই থাকতে হচ্ছে। এদের সকলেরই
কোথাও না কোথাও মূল গাঁথা ছিল। কোন এক
গ্রামে ছিল জমি-জায়গা, দোকান
পাট, ওদেরও ছেলেমেয়েও স্কুলে যেত।
তারপর এক ‘ওভার থ্রো' মানুষগুলোকে ছুড়ে
ফেলেছে শহর লাগোয়া মফস্বলের এই এক
কোণে। বানিয়ে দিয়েছে চতুর্থ শ্রেণীর
নাগরিক।
গুজরাট হামলার প্রধান উস্কানি দাতা
গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী নারেন্দ্র মোদিকে
ভারতীয় হাইকোর্ট মুক্তি দিয়েছে। এমনকি
এই পশুর পরবর্তী নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রী
প্রার্থী হওয়ার সম্ভাবনা আছে। এখন ভাবুন
মুসলিমদের জন্য আরও কি দুর্ভাগ্য অপেক্ষা
করছে!ভারতের এই নরেন্দ্র মোদি ২০০২
সালের মুসলিম বিরোধী দাঙ্গার জন্য অনুতপ্ত
নন বলে ঘোষণা করেছেন।  একই সঙ্গে তিনি
বলেছেন, তাকে বহনকারী মোটরগাড়ি
কোনো কুকুর ছানাকে চাপা দিলে সে জন্য
দুঃখ অনুভব করবেন তিনি(কিন্তু মুসলিম
হত্যার জন্য নয়!!)বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে
দেয়া সাক্ষাতকারে এ সব কথা বলেছেন উগ্র
হিন্দুত্ববাদী দল ভারতীয় জনতা পার্টি
(বিজেপি)’র উগ্রবাদী এ নেতা। রয়টার্সকে
দেয়া সাক্ষাতকারে মোদি আরো দাবি
করেন, ‘আমি যদি অপরাধ করে থাকতাম
তবে অনুশোচনায় ভুগতাম।’...হিন্দু পরিবারে
আমার জন্ম, আমি হিন্দু জাতীয়তাবাদী এবং
দেশভক্ত। এতে কোনো অন্যায় নেই।"
মোদির বক্তব্যের লিংকঃ http://
www.thehindu.com/news/national/no-guilty-
feeling-about-gujarat-riots-says-modi/
article4908704.ece http://in.news.yahoo.com/
no-guilty-feeling-gujarat-riots-says-
modi-142709325.html
একটি ট্রাইব্যুনালের হিসেব হলো, নরেন্দ্র
মোদীর নেতৃত্বে ওই গণহত্যা পর্বে ঘরছাড়া
হতে হয়েছিল প্রায় আড়াই লাখ মানুষকে।
এখনো হাজার চারেক পরিবারকে কাটাতে
হচ্ছে রহিমাবাদ সোসাইটির মতো রিলিফ
কলোনিতে। পারেননি ঘরে ফিরতে, কেননা
তারা যে মুসলিম, তারা যে চতুর্থ শ্রেণীর
নাগরিক।
এত বছর পরও তারা ঘরছাড়া, কেন? কোথায়
ছিল তাদের ঘর? রহিমাবাদ সোসাইটিতে
গিয়ে একবার প্রশ্নটা করেই বুঝতে
পাবেন, কেন আজও তারা এখানে। একটু কথা
বললেই এদের মুখে উঠে আসবে বিলকিস বানুর
নাম। অন্তঃসত্ত্বা যে মহিলাকে মোদীর
বাহিনী পরপর ধর্ষণ করে মেরে ফেলেছিল।
মেরে ফেলেছিল বিলকিস বানু পরিবারের
আরো ১৪ জনকে। সেই ভয়াবহ রাতের আতঙ্ক
আজও কথার ফাঁকে টের পাওয়া যায় এদের
চোখে-মুখে!

আরাকানে রোহিঙ্গাদের ওপর ইতিহাসের বর্বর, অমানবিক ও রোমহর্ষক নির্যাতনে

0 মন্তব্য(গুলি)

আরাকানে রোহিঙ্গাদের ওপর ইতিহাসের বর্বর, অমানবিক ও রোমহর্ষক নির্যাতনের ঘটনা এখন ‘টক অব দ্যা ওয়ার্ল্ড’। মানবতাবিরোধী এমন কর্মকাণ্ডে বিশ্ববিবেক আজ স্তব্ধ ও হতবাক! এ যেন আধুনিক জাহেলিয়াতের আরেক নমুনা। মুসলিম নর-নারী আর শিশু-কিশোরদের আর্তনাদে আল্লাহর আরশ কাঁপছে! কিন্তু ইয়াজিদের মতো মন গলছে না এ সমাজের নব্য ফেরাউন আর নমরুদের উত্তরসূরিদের। কারণ একটাই—নির্যাতিত, বঞ্চিত আর অবহেলিত ওরা তো মানুষ নয়, ওরা মুসলমান! এখানে জাতিসংঘ, বিশ্বমানবাধিকার সংস্থা আর বিশ্ব মোড়লদের বক্তৃতা-বিবৃতি দেয়া ছাড়া যেন আর কিছুই করার নেই। অথচ রোহিঙ্গা আজ একটি আন্তর্জাতিক সমস্যা। শাসকদের অত্যাচার-নির্যাতনের কারণে মানুষ আজ সাগরে মরতে রাজী তবুও নিজ দেশে যেতে রাজি না।

খ্রিস্টপূর্ব ২৬৬৬ অব্দ থেকে ১৭৮৪ অব্দ পর্যন্ত প্রায় সাড়ে চার হাজার বছর আরাকান ছিল বাঙালি মুসলমানদের গড়া এক স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র। এখানে মগ এবং মুসলমানের মধ্যে অতীত ইতিহাসে সম্প্রীতির কোনো অভাব ছিল না। ম্রোহং (রোহাং) শহর ছিল আরাকানের রাজধানী। মহানবী (সা.)-এর জীবিতকালেই আরবদের সঙ্গে দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সঙ্গে বাণিজ্যিক যোগাযোগ ছিল। খ্রিস্টীয় সপ্তম শতকে আরব বণিকদের সঙ্গে বঙ্গোপসাগরীয় অঞ্চলগুলোর বাণিজ্যিক যোগাযোগের মাধ্যমে আরবীয় দ্বীপগুলোতে মুসলমানরা আলাদা একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেছিল। এ রাজ্যের শাসকের উপাধি ছিল ‘সুলতান’। আরাকান মূলত ইসলামী রাষ্ট্রের আদলে গড়ে ওঠা প্রাচীন ঐতিহ্যমণ্ডিত একটি শহর। কিন্তু আজ নিজ মাটিতেই মুসলমানরা পরাধীন।

কথিত আছে, এ বংশের রাজা মহত ইং চন্দ্রের রাজত্বকালে (৭৮৮-৮১০) মুসলমানদের কয়েকটি বাণিজ্য বহর রামব্রী দ্বীপের তীরে এক সংঘর্ষে ভেঙে পড়ে। জাহাজের আরবীয় আরোহীরা তীরে এসে ভিড়লে রাজা তাদের উন্নততর আচরণে সন্তুষ্ট হয়ে আরাকানে বসতি স্থাপন করান। আরবীয় মুসলমানরা স্থানীয় রমণীদের বিয়ে করেন এবং স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন। আরবীয় মুসলমানরা ভাসতে ভাসতে কূলে ভিড়লে পর রহম, রহম ধ্বনি তুলে স্থানীয় জনগণের সাহায্য কামনা করতে থাকে। বলাবাহুল্য রহম একটি আরবি শব্দ—যার অর্থ দয়া করা। কিন্তু জনগণ মনে করে, এরা রহম জাতীয় লোক। রহম শব্দই বিকৃত হয়ে রোয়াং হয়েছে বলে রোহিঙ্গারা মনে করে থাকেন। এভাবেই আরাকানের গোড়াপত্তন।

বঙ্গদেশের করদরাজ্য হিসেবে আরাকানকে প্রতিষ্ঠা করার মাধ্যমে সূচিত হয় এক মহাযুগের, কিন্তু অষ্টাদশ শতকে বার্মার অধীন একটি প্রদেশ হিসেবে শাসিত হয়ে আরাকানিদের যেমন লাভ করার কিছুই ছিল না, তেমনি আরাকানিদের মতো এমন এক জাতিকে শেখানোর মতো বর্মীদেরও কিছুই ছিল না। কারণ আরাকানি জাতি কয়েক শতাব্দী ধরে জ্ঞান-গরিমার উচ্চশিখরে আরোহণকারী মুসলিম সমাজের ঘনিষ্ঠ সংশ্রবে ছিল। এ সময় বর্মীরা ছিল বিচ্ছিন্ন ও পশ্চাত্পদ একটি জাতি। ভোদাপায়া আরাকান দখল করে এ স্বাধীন অবস্থার বিলুপ্তি ঘটান। অথচ ঘা-থানডির সঙ্গে প্রতিজ্ঞা ছিল, ভোদাপায়া আরাকানের স্বাধীন অবস্থা অক্ষুণ্ন রাখবেন আর বিনিময়ে আরাকান বার্মার রাজাকে বার্ষিক কর প্রদান করবে—যেমনটি করেছিল ১৪৩০ খ্রিস্টাব্দে বাংলাদেশের গৌড়ের সুলতান জালালউদ্দিন শাহ। যা হোক, ভোদাপায়া ১৭৮৪ সালে আরাকান দখল করে বার্মাকে একটি প্রাদেশিক রাজ্যে পরিণত করলেন এবং ঘা-থানডিকে নিয়োজিত করলেন প্রাদেশিক গভর্নর হিসেবে।

ভোদাপায়ার আরাকানের ক্ষমতা দখলের মাত্র এক বছরের মধ্যেই ঘা-থানডির ওপর এসে যায় আরেক প্রবল অথনৈতিক আঘাত। ভোদাপায়া শ্যাম রাজ্য (বর্তমান থাইল্যান্ড) আক্রমণের জন্য চল্লিশ হাজার সৈন্য ও চল্লিশ হাজার মুদ্রা চেয়ে ঘা-থানডির ওপর প্রজ্ঞাপন জারি করলেন। প্রকৃতপক্ষে প্রকট দারিদ্র্যের সর্বনিম্ন অবস্থানে নিপতিত আরাকানের জনগণের পক্ষে এর শতাংশ ভাগ পূরণও সম্ভব ছিল না। চাপের মুখে ঘা-থানডির দাবির অর্ধেক কোনোভাবে পূরণে রাজি হলে ভোদাপায়া রাগান্বিত হয়ে ঘা-থানডির এক ছেলেকে হত্যা করেন। পুরো দাবি আদায় না হলে পরিবারের সবাইকে অনুরূপ হত্যা করা হবে বলে হুমকি দেন।

এতে ভীত হয়ে ঘা-থানডি কয়েক হাজার অনুচর নিয়ে পালিয়ে আশ্রয় নেন ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি অধিকৃত সীমান্তবর্তী কক্সবাজার জেলার গভীর পার্বত্য অঞ্চলে। আর এরই সঙ্গে শুরু হয় আরাকানিদের মরণপণ স্বাধীনতা সংগ্রাম। অদৃষ্টের পরিহাস—যার অনুপ্রেরণায় ভোদাপায়া আরাকান দখল করলেন, তারই নেতৃত্বে মাত্র এক বছরের মধ্যে শুরু হলো একটি স্বাধীনতা যুদ্ধের ইতিহাস। মূলত দীর্ঘদিনের স্বাধীনতা হারিয়ে এবং আরাকানিদের ওপর বর্মী সৈন্যদের চরম নির্যাতন এবং জনগণের ওপর ভোদাপায়ার অতিরিক্ত কর আরোপ প্রভৃতিতে আরাকানের জনগণ অতিষ্ঠ হয়ে পড়ে। আরাকান থেকে লুণ্ঠিত মাল ও বিশাল মহামুনি মূর্তি দুর্গম পার্বত্য পথ দিয়ে বার্মার মান্দালয়ে স্থানান্তর করতে হাজার হাজার মগ-মুসলিম আরাকানিদের জোর করে নিয়োগ করা হয়। দুর্গম গিরিপথ দিয়ে এ স্থানান্তরের কাজ ম্রোহং থেকে মানাদলয় পর্যন্ত পথ আরাকানিদের লাশে ভরে গিয়েছিল। এখনও ম্রোহং আন গিরিপথ পর্যন্ত এলাকা জনবসতি বিরল।

আজ রোহিঙ্গাদের জন্য যেন কোনো আইনকানুন নেই। আইন যেন আজ নীরবে নিভৃতে কাঁদে। কারণ মুসলমানদের জন্য আইন নয়! আইন এখানে অকেজো, বিবেক এখানে ভোঁতা। মানবাধিকার লঙ্ঘনের এসব দৃশ্য আর মানুষের বোবা কান্না যেন মানব সভ্যতাকে ভাবিয়ে তুলছে! প্রতিটি রোহিঙ্গা মুসলমানের কান্নার আওয়াজ আমাদের আধুনিক সভ্যতার গালে এক-একটি চপেটাঘাত করে বলছে—হে আধুনিক পৃথিবীর মানবসমাজ! তুমি মুসলমানদের জন্য বড়ই অমানবিক। হে সভ্যতা! তুমি এখনও মুসলমানদের জন্য অনেক বর্বর। অথচ এই পৃথিবীতে মানবিকতা, ইনসাফ আর মজলুমের অধিকার আমরাই নিশ্চিত করেছি। প্রশ্ন হচ্ছে, আরাকানের নির্যাতিত, নিপীড়িত আর বঞ্চিত মুসলমানদের জন্য বিশ্বের ঘুমন্ত বিবেক জাগবে কবে? কবে ফিরে পাবে আরাকানের মুসলমানরা তাদের হারানো স্বাধীনতা?