Translate

তাওবায় গুণাহ মাফ হয়

Friday, May 18, 2018

0 মন্তব্য(গুলি)
ইসলামের একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিভাষা তাওবা। তাওবা মানুষের ¯্রষ্টা, বিশ^জগতের প্রতিপালক আল্লাহ সুবহানাহুওয়াতায়ালার পক্ষ থেকে তাঁরই শ্রেষ্ঠতম সৃষ্টি ও প্রতিনিধি মানুষের জন্য অফুরন্ত এক নেয়ামত, করুণা ও ভালোবাসা। পাপ ও শাপমোচনের, মুক্তির অনন্য সুযোগের নাম তাওবা। মুসলিম সমাজে তাওবা ব্যাপক পরিচিত বিষয় হলেও তাওবা কেন অপরিহার্য, কী এর গুরুত্ব ও কিভাবে তাওবা করতে হয় সে সম্পর্কে সবার স্পষ্ট ও সঠিক ধারণা নেই। তাওবা শব্দের আক্ষরিক অর্থ ফিরে আসা, প্রত্যাবর্তন করা।
পারিভাষিক অর্থে তাওবা হলো ইসলাম নিষিদ্ধ কাজ ত্যাগ করে ইসলাম নির্দেশিত কাজ করার মাধ্যমে আল্লাহর পথে ফিরে আসা ও আল্লাহর বিধানের ওপর অটল এবং অবিচল থাকা। মুসলিম ও অমুসলিম সবাইকে ইসলাম তাওবা করার আদেশ দিয়েছেন ও আহ্বান করেছেন। আল্লাহ সুবহানাহু বলেন, ‘হে মুমিনগণ! তোমরা সকলেই আল্লাহর কাছে তাওবা করো; যাতে তোমরা সফল হতে পারো।’ (সূরা আননূর,আয়াত-৩১)। আল্লাহতায়ালা আরো বলেন, ‘হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহর নিকট তাওবা করো খাঁটি তাওবা।’ (সূরা আততাহরিম, আয়াত-০৮)। মুহাম্মাদ সা: বলেন, ‘ইয়া আইয়্যুহান নাসু তুবু ইলাল্লাহি’ অর্থাৎ হে মানব সব! তোমরা আল্লাহর নিকট তাওবা করো- আল্লাহর নিকট ফিরে আসো, প্রত্যাবর্তন করো। (সহিহ মুসলিম, হাদিস নং ৭০৩৪)।
সুতরাং মুসলিম-অমুসলিম সবাইকে আল্লাহর বিধানের দিকে ফিরে আসতে হবে অর্থাৎ তাওবা করতে হবে, তাহলেই কেবল আমরা সফল হতে পারব। শরিয়াহ বিশেষজ্ঞ আলেমরা সর্বসম্মতিক্রমে বলেছেন, সর্বদা তাওবা করা প্রত্যেক মুসলিমের জন্য ওয়াজিব। ইমাম কুরতুবি র: ও ইমাম নববী র: এই ইজমার কথা তাঁদের কিতাবে উল্লেখ করেছেন। তাওবা আল্লাহর জান্নাত প্রাপ্তি, জাহান্নাম থেকে মুক্তি, ক্ষমা ও ভালোবাসা পাওয়ার একটি বিরাট সুযোগ ও উপায়। আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘নিশ্চয়ই আল্লাহ বেশি বেশি তাওবাকারীকে ভালোবাসেন।’ (সূরা বাকারা, আয়াত-২২২)।
আল্লাহর ভালোবাসা পেতে চায় না কে! সেই ভালোবাসার পাথেয় হলো তাওবা। আর এ তাওবা হতে হবে শুধু আল্লাহর জন্য। আমরা জানি, কর্মের ফলাফল নির্ভর করে নিয়তের ওপর। সুতরাং তাওবা আল্লাহর জন্য হলে আমরা তাওবার কাক্সিক্ষত ফজিলত লাভ করতে পারব। তাওবা কিভাবে করতে হয়? মহান আল্লাহর হক বা অধিকার সম্পর্কিত হলে তিনটি শর্ত বাস্তবায়ন করলেই তাওবা হয়ে যাবে। শর্ত তিনটি হলো- এক. পাপ পুরোপুরিভাবে ছেড়ে দিতে হবে। দুই. পাপের জন্য অনুশোচনা করতে হবে, লজ্জিত ও অনুতপ্ত হতে হবে। তিন. ওই পাপ দ্বিতীয়বার না করার সিদ্ধান্ত নিতে হবে, দৃঢ় সঙ্কল্প করতে হবে ও এরই ওপর অটল ও অবিচল থাকতে হবে। আর মানুষের হক বা অধিকারের সাথে সংশ্লিষ্ট হলে এর সাথে আরো একটি শর্ত যুক্ত হবে আর তা হলো সেই ব্যক্তি মানুষের কাছে মাফ চেয়ে নিতে হবে অথবা তার পাওনা-প্রাপ্তি, হক ফিরিয়ে দিতে হবে।
এ শর্তগুলো পূরণ করলেই তাওবা সহিহ হবে অন্যথায় তাওবা বিশুদ্ধ হবে না। এ ছাড়া এটা খুব ভালো, তাওবা করার জন্য প্রথমে সুন্দর করে অজু করে দুই রাকাত সালাত আদায় করে আল্লাহ সুবহানাহুর কাছে মাগফিরাত-ক্ষমা চাইব বিগত সব পাপ ও আদেশ অমান্য করা থেকে। তবে এই নফল সালাত তাওবার জন্য জরুরি নয়। তাওবার সময়সীমা হলো মৃত্যুর আলামত প্রকাশিত হওয়ার আগে পর্যন্ত। এ সম্পর্কে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, ‘নিশ্চয়ই আল্লাহ তার বান্দার তাওবা কবুল করেন যতক্ষণ না সে (মৃত্যু যন্ত্রণায়) গরগর করে।’
(সুনানুত তিরমিযি, হাদিস-৩৫৩৭)। তবে এর মানে এ নয় যে, আমরা সেই প্রান্তিক সময়ের প্রতীক্ষা করব, আর মৃত্যুর সময় কাছাকাছি এলে তাওবা করে নেব। প্রকৃত ব্যাপার হলো আমরা কেউ জানি না ঠিক কখন আমাদের মৃত্যুলগ্ন আসবে। তাই পাপে মগ্ন থাকার সুযোগ নেই। সর্বোচ্চ এই সময়সীমা মানুষের জন্য, আল্লাহর বান্দাদের জন্য বিশেষ ইহসান। আমরা যদি হাদিসের দিকে তাকাই তাহলে দেখতে পাই রাসূল সা: বলেন, ‘হে মানব সকল! তোমরা আল্লাহর নিকট তাওবা করো; কেননা আমি প্রতিদিনে শতবার তাঁর নিকট তাওবা করি।’ (সহিহ মুসলিম, হাদিস নং ৭০৩৪)। সুতরাং মুহাম্মাদ সা: এর সুন্নাত অনুযায়ী আমাদের প্রতিনিয়ত ও সার্বক্ষণিক তাওবার ওপর থাকতে হবে। তাওবা ব্যক্তি মানুষের একান্ত অনুভূতির, মনের ও অন্তরের বিষয়। আমাদের সমাজে দেখা যায় তাওবা পড়ান রীতি।
কোনো একজন মানুষ খুবই মুমূর্ষু অবস্থায় আছে, বেঁচে থাকার আশা নেই তখন মসজিদের ইমাম বা কোনো হুজুরকে ডেকে এনে তাওবা পড়ান হয়। আবার দেখা যায় কোনো পীর মসজিদে-ময়দানে বয়ান শেষে উপস্থিত মানুষদের তাওবা করায়, পড়ায়। দেখায় যায়, বয়ান শেষ হলে পীর একটি পাগড়ি ছেড়ে দেন যার একটি অংশ পীরের হাতের মুঠোর মধ্যে থাকে আর, উপস্থিত সবাই সেই পাগড়ি ধরে রাখে এবং যারা পাগড়ি ধরতে না পারে তারা পরস্পরের শরীর স্পর্শ করে অথবা পরিহিত কাপড় ধরে থাকে। তারপর উর্দু-বাংলা-আরবি মিলিয়ে বিভিন্ন বাক্য আওড়িয়ে তাওবা পড়ায়। অথচ তাওবা কাউকে ডেকে এনে করান বা পড়ানর বিষয় নয় বরং তাওবা হলো ব্যক্তি মানুষের একান্ত হৃদয়মনের ব্যাপার; ব্যক্তি স্বয়ং একাকী আল্লাহর কাছে তাওবা করবে।
আর অপ্রিয় হলেও সত্য যে, এরকম তাওবার কোনো দৃষ্টান্ত কুরআন ও হাদিসে নেই, নেই কোনো সাহাবি-তাবেয়িদের জীবনে কিংবা মুসলিম উম্মাহর প্রাথমিক যুগের কোনো সালফে সালেহিনদের কিতাবে আমলে। এইরূপ তাওবার পদ্ধতি সুস্পষ্ট সুন্নাহ পরিপন্থী গোমরাহি ও বিদয়াত। পরিশেষে আমরা উপযুক্ত তাওবার শর্তগুলো বাস্তবায়নের মাধ্যমে সুন্নাত মোতাবেক তাওবা করে আল্লাহর ভালোবাসা হাসিল করি আর সবসময় এ দোয়া মন দিয়ে অনুভব করে অর্থের দিকে খেয়াল রেখে পড়ি ‘আসতাগফিরুল্লাহ ওয়া আতুবুইলাইহি’- আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাইছি ও তাঁর কাছে তাওবা করছি।
লেখক : প্রবন্ধকার

রোজা : ছয়টি অতি পরিচিত ভুল ধারণা

0 মন্তব্য(গুলি)
চলতি সপ্তাহেই শুরু হচ্ছে মুসলমানের পবিত্র রমজান মাস। যারা রোজা রাখেন, তারা সূর্যোদয় থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত কিছুই মুখে দেন না।
মুসলিমরা বিশ্বাস করেন- স্বেচ্ছা নিয়ন্ত্রণ আর বেশি সময় ধরে ইবাদত-বন্দেগির ভেতর দিয়ে মুসলমানরা এ মাসে নতুন করে আত্মশুদ্ধি অর্জনের চেষ্টা করেন।
আপাতদৃষ্টিতে রোজা সহজ সরল একটি ধর্মীয় আচরণের বিষয়, কিন্তু এটি নিয়ে বেশ কিছু ভুল ধারণা বিদ্যমান যেগুলো নিয়ে মুসলিমদের মধ্যে মতভেদ রয়েছে।
নিচে রোজা নিয়ে সেরকম ছটি খুব সাধারণ ভুল ধারণা তুলে ধরা হলো। ব্রিটেনে অ্যাডভান্সড (অগ্রসর) ইসলামি বিজ্ঞান এবং শারিয়া আইনের ছাত্র শাব্বির হাসান তার ধর্মীয় জ্ঞান প্রয়োগ করে এগুলোর বিশ্লেষণ করেছেন :

'দাঁত ব্রাশ করলে রোজা ভেঙ্গে যায়'
অনেক মানুষ মনে করেন পেস্ট দিয়ে দাঁত ব্রাশ করলে রোজা ভেঙ্গে যায়।
কিন্তু ইসলামি চিন্তাবিদরা বলেন, দাঁত ব্রাশ করলে রোজা ভাঙ্গে না।
শাব্বির হাসান বলেন, অনেক মানুষ অতি সাবধানী।
তাদের জন্য কিছু পরামর্শ দিয়েছেন তিনি,- "সবচেয়ে ভালো পরামর্শ অল্প পরিমাণ পেস্ট নিন। মিন্টের গন্ধ কম এরকম পেস্ট ব্যবহার করুন।"
ভয় পেলে, গাছের সরু ডাল থেকে তৈরি মিসওয়াক বা দাঁতন ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।
'মুখের লালা পেটে ঢুকলে রোজা থাকে না'
শাব্বির হাসান বলছেন, মুখের লালা পেটে ঢুকলে কোনো অসুবিধা নাই।
"মুখের লালা পেটে ঢুকলে রোজা থাকে না- এই বিশ্বাসের কোনো ভিত্তি নেই, নিজের লালা গলাধঃকরণ করা খুব স্বাভাবিক একটি শারীরিক প্রক্রিয়া, এতে অবশ্যই রোজা ভাঙ্গে না।" তিনি বলেন, বরঞ্চ ইসলামে রোজার সময় মুখের লালা খাওয়া উৎসাহিত করা হয়েছে।
তবে, তিনি বলেন, অন্যের মুখের লালা নিজের মুখে ঢুকলে রোজা থাকবে না।
"রোজা পালনের সময় আপনি আপনার সঙ্গীকে চুমু খেতে পারবেন না, অন্তরঙ্গ হওয়া যাবে না। মূল উদ্দেশ্যই হচ্ছে আপনার আকাঙ্ক্ষাকে সংযত করা। সে কারণেই খাবার, পানীয় বা অন্তরঙ্গ সম্পর্ক বন্ধ রাখতে হবে।"

দুর্নাম, গুজব রটালে রোজা ভেঙ্গে যেতে পারে
'শুধু খাবার অথবা পানি না খেলেই রোজা কবুল হয়ে যাবে'
শুধুমাত্র খাবার মুখে দিলে বা পানি পান করলে রোজা ভেঙ্গে যাবে তাই নয়। আরো কিছু আচরণে রোজা নষ্ট হয়ে যেতে পারে।
মি: হাসান বলছেন, "কিছু অপরাধ জিহ্বা দিয়ে হয়...আপনি যদি দুর্নাম রটান, গুজবে অংশ নেন বা কাউকে গালিগালাজ করেন, তাহলে রোজা কবুল নাও হতে পারে।"
'অসাবধানতাবশত কিছু খেয়ে ফেললে রোজা ভেঙ্গে যায়'
আপনি যদি সত্যিই একদম ভুলে কিছু খেয়ে ফেলেন, তাহলেও আপনার রোজা বৈধ থাকবে, যদিনা আপনি বোঝার সাথে সাথে খাওয়া বন্ধ করে দেন।
কিন্তু নামাজের আগে ওজুর সময় যদি আপনি অনিচ্ছাকৃত-ভাবে পানি খেয়ে ফেলেন তাহলে রোজা ভেঙ্গে যাবে। কারণ এই ভুল এড়ানো সম্ভব।
মি: হাসান বলেন, "এ কারণে রোজা রেখে অজু করার সময় গারগল না করতে পরামর্শ দেওয়া হয়। আপনি শুধু কুলি করে পানি ফেলে দিন।"
'ওষুধ খাওয়া যাবে না'
মুসলিম কাউন্সিল অব ব্রিটেন (এমসিবি) আন্তর্জাতিক গ্লুকোমা সমিতির সাথে যৌথ একটি বিবৃতি দিয়ে বলেছে- রোজা রেখেও কিছু ওষুধ ব্যবহার করা যাবে। যেমন, চোখের ড্রপ।
এমসিবি বলেছে, চোখের ড্রপ, কানের ড্রপ বা ইনজেকশনে রোজা ভাঙবে না।
তবে যেসব ওষুধ মুখে দিয়ে খেতে হয়, সেগুলো নিষিদ্ধ । সেহেরির আগে এবং ইফতারির পর তা খেতে হবে।
মি: হাসান বলেন, "প্রথম কথা আপনি যদি অসুস্থ থাকেন, তাহলে ভাবেতে হবে আপনি রোজা আদৌ রাখবেন কিনা?"
"কোরানে পরিস্কার বলা আছে, আপনি চিকিৎসকের পরামর্শ মত চলুন।"
'যেকোনো পরিস্থিতিতেই রোজা রাখতে হবে'
ইসলামে শুধু প্রাপ্তবয়স্ক (সাধারণত ১৫ বছর) এবং সুস্থ ব্যক্তির রোজা ফরজ বা আবশ্যিক করা হয়েছে।
এমসিবি বলছে - শিশু, অসুস্থ (শারীরিক এবং মানসিক), দুর্বল, ভ্রমণকারী, অন্তঃসত্ত্বা বা শিশুকে বুকের দুধ খাওয়াচ্ছেন এমন নারীর জন্য রোজা আবশ্যিক নয়।
"যদি স্বল্প সময়ের জন্য কেউ অসুস্থ হন, তাহলে সুস্থ হওয়ার পর অন্য সময়ে তিনি ভাঙ্গা রোজাগুলো পূরণ করে দিতে পারেন, " হাসান বলেন।
"যদি দীর্ঘস্থায়ী কোনো অসুস্থতা থাকে এবং রোজা রাখা সম্ভব না হয়, তাহলে রোজার মাসের প্রতিদিন ফিদা অর্থাৎ গরিবকে কিছু দান করুন।" ব্রিটেনে এই ফিদার পরিমাণ নির্ধারিত করা হয়েছে প্রতিদিন চার থেকে পাঁচ পাউন্ড।

জেনে নিন সাহরির বরকত

0 মন্তব্য(গুলি)
মাহে রমজানের অন্যতম একটি অংশ হলো সাহরি। রোজার প্রস্তুতি হিসেবে মুসলিমরা সুবহে সাদিকের আগে সাহরি খেয়ে থাকেন। রাসূল (সা.) সাহরির গুরুত্ব সম্পর্কে বিভিন্ন সময় বর্ণনা করেছেন। প্রিয় নবীজি তার সাহরিতে দুধ ও খেজুর খেতে পছন্দ করতেন বলে জানা যায়।
হযরত আনাস ইবনে মালিক (রা.) হতে বর্ণিত তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন তোমরা সাহরি খাও কারণ সাহরিতে বরকত রয়েছে। (বুখারি শরিফ)
আরেক হাদিসে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাহরি খাওয়াকে মুসলিম ও অমুসলিমদের রোজার মধ্যে পার্থক্য হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।
হযরত আমর ইবনে আস (রা.) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন নিশ্চয়ই আমাদের রোজা ও আহলে কিতাবদের(ইহুদি খ্রিস্টান) রোজার মধ্যে তফাৎ হলে সাহরি খাওয়া।(মুসলিম শরিফ)।

যুগে যুগে রোজা
ইসলামের পাঁচটি মূল ভিত্তির একটি হলো রোজা। প্রতিবছর পবিত্র রমজান মাস জুড়ে সারা বিশ্বের মুসলিমরা সাওম পালন করে আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য।
আল্লাহপাক রোজা যে শুধু আমাদের ওপর ফরজ করেছেন তা নয়, মহানবী হযরত মোহাম্মদ (সা.)-এর আগেও অন্যান্য নবী-রাসুলের যুগে রোজার বিধান ছিলো। পৃথিবীর প্রথম মানুষ আমাদের আদি পিতা হযরত আদম(আ.) ও বিবি হাওয়াও রোজা রেখেছিলেন বলে জানা যায়।
পরবর্তীতে অন্যান্য নবী রসুল(সা.) ও উম্মতের ওপরও রোজার বিধান আরোপ করা হয়েছিল। এ সম্পর্কে মহান আল্লাহতায়ালা পবিত্র কোরআনে বলেছে, ‘হে ইমানদারগণ! তোমাদের ওপর রোজা ফরজ করা হয়েছে, যেমনিভাবে ফরজ করা হয়েছিল তোমাদের পূর্ববর্তীদের ওপর, যাতে তোমরা খোদাভীরুতা অর্জন করতে পারো। (সূরা বাকারা, আয়াত-১৮৩)।
এ আয়াতের ব্যাখ্যায় আল্লামা আলুসি (র.) তার ‘রুহুল মাআনি’ তাফসিরে উল্লেখ করেছেন যে, উপরোক্ত আয়াতে ‘মিনকাবলিকুম’ দ্বারা হজরত আদম (আ.) থেকে শুরু করে হজরত ঈসা (আ.) পর্যন্ত সব নবী-রসুলের সময়কে বুঝানো হয়েছে।
মহান আল্লাহতায়ালা হজরত আদম (আ.)-কে জান্নাতে প্রেরণ করে একটি গাছের ফল খেতে নিষেধ করেছিলেন। মূলত সেটিই ছিলো মানুষের প্রতি আল্লাহর প্রথম সংযমের নির্দেশ। আল কোরআনে আল্লাহ ইরশাদ করেন, ‘হে আদম! তুমি ও তোমার স্ত্রী জান্নাতে বসবাস করতে থাক এবং সেখানে যা চাও, যেখান থেকে চাও, পরিতৃপ্তসহ খেতে থাক, কিন্তু তোমরা ওই গাছের কাছে যেও না। (যদি যাও বা তার ফল খাও) তাহলে জালিমদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যাবে।’ (সূরা বাকারা, আয়াত-৩৫)। হজরত আদম (আ.) ও হজরত হাওয়া (আ.) শয়তানের প্ররোচনায় ওই গাছের ফল খেয়েছিলেন এবং পরিণামে মহান আল্লাহতায়ালা তাদের তাদের বেহেশত থেকে পৃথিবীতে পাঠিয়ে দেন।
এই ভুলের জন্য অনুতপ্ত হয়েছিলেন হজরত আদম (আ.) ও হজরত হাওয়া (আ.)। এই ভুল থেকে ক্ষমা পেতে তওবা ইস্তিগফার করেন এবং এর কাফ্ফারা হিসেবে ধারাবাহিক ৪০ বছর রোজা রেখেছিলেন তারা।
হজরত আদম (আ.)-এর পর অন্য নবী-রসুলগণের যুগেও রোজার বিধান ছিল। তবে যুগে যুগে তাদের রোজা নিয়ম ও বিধানের ভিন্নতা ছিলো। হজরত নুহ (আ.) এর উপরও রোজা ফরজ ছিল। রসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘হজরত নুহ (আ.) শাওয়াল মাসের প্রথম দিন ও জিলহজ মাসের দশম দিন ব্যাতীত সারা বছর রোজা রাখতেন। (ইবনে মাজাহ)।
হজরত মুসা (আ.) এর ওপর তাওরাত কিতাব অবতীর্ণ হওয়ার আগে তিনি ৩০ দিন রোজা রেখেছিলেন বলে জানা যায়। আর ওহি নাজিল হওযার পর আল্লাহ তাকে আরও দশ ১০ দিন রোজা রাখার নির্দেশ প্রদান করেছিলেন। হজরত ইদ্রিস (আ.) সাড়া বছর রোজা রাখতেন। হজরত দাউদ (আ.) একদিন পর পর রোজা রাখতেন বলে জানা যায়।
হযরত ইব্রাহিম (আ.) এর রোজা সম্পর্কে আমাদের নবী হযরত মোহাম্মদ (সা.) বলেন, ইব্রাহিম (আ.) প্রতি মাসের তিনদিন রোজা রাখতেন (ইবনে মাযাহ)। যাদের উপর প্রধান চারখানা আসমানি কিতাব নাযিল হয়েছে তার একজন হলেন হযরত দাউদ (আ.)। তার উপর নাযিলকৃত আসমানি কিতাবের নাম ‘যাবুর’। হযরত দাউদ (আ.) একদিন রোজা রাখতেন আর একদিন বাদ দিতেন। তার রোজার ব্যাপারে মুসলিম শরিফে উল্লেখ রয়েছে।
মহানবী (সা.) মদিনায় আগমন করার পর শুধু মহররমের আশুরায় রোজা রাখতেন। হজরত ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণনা থেকে জানা যায়, রসুল (সা.) মদিনায় এসে ইহুদিদের মহররমের ১০ তারিখে রোজা রাখতে দেখেন। এদিন হজরত মুসা (আ.) ও তার কওমকে ফেরাউনের কবল থেকে মুক্ত করেছিলেন আল্লাহপাক ফলে শুকরিয়াস্বরূপ এ দিন মুসা (আ.) রোজা রেখেছিলেন। সেই দিনটির স্মরণেই ইহুদিরা আশুরায় রোজা রাখত।
রসুল(সা.) বললেন, আমরা তোমাদের(ইহুদিদের) চেয়ে মুসাকে (আ.) অনুসরণের অধিক হকদার। এরপর তিনি আশুরার দিন রোজা রাখলেন এবং সাহাবায়ে কেরামদের রোজা রাখার নির্দেশ প্রদান করলেন।
এরপর দ্বিতীয় হিজরির ১০ শাবান আসে আল্লাহ পাকের পক্ষ থেকে রোজা ফরজের বিধানের কোরআনের আয়াত। সেই থেকে প্রতিবছর রমজান মাসজুড়ে রোজা পালন ফরজ হয় উম্মতের ওপর।

রোজাদারদের জন্য জরুরী কিছু টিপস

0 মন্তব্য(গুলি)
শুরু হয়েছে মাহে রমজান, সিয়াম সাধনার মাস। শুক্রবার থেকেই বাংলাদেশের মুসলিমরা রোজা পালন শুরু করবেন।
রমজান মাসে ধর্মীয় বিধি বিধানের পাশাপাশি দৈনন্দিন কাজ সুষ্ঠুভাবে করার জন্য স্বাস্থ্য ঠিক রাখা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আর সে কারণেই পুষ্টিবিদরা বলছেন দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকার পর সেহরি ও ইফতারে খাদ্য দ্রব্য বাছাইও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠে। জীবনাচরণেও কিছুটা পরিবর্তন এসে থাকে এই সময়ে, পরিবর্তন আসে নিয়মিত কাজের ধরণেও।
রোজায় একজন পূর্ণবয়স্ক মানুষ স্বাস্থ্য ঠিক রেখে কিভাবে রোজা করবেন বা রোজার সময় কোন ধরনের খাদ্য দ্রব্য বেশি নেয়া উচিত এমন প্রশ্নের জবাবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পুষ্টি ও খাদ্য বিজ্ঞান ইন্সটিটিউটের অধ্যাপক গোলাম মাওলা বলেন অতিরিক্ত শারীরিক পরিশ্রম থেকে যেমন বিরত থাকতে হবে তেমনি সহজে হজম হয় এমন খাবার খেতে হবে। তবে তার মতে কোনোভাবেই বেশি খাওয়া যাবেনা।
পুষ্টিবিদ অধ্যাপক নাজমা শাহীন বলছেন রোজার জন্য আলাদা ডায়েটের প্রয়োজন নেই। তবে পানি জাতীয় খাবার বেশি খেতে হবে তবে এর মধ্য বিশুদ্ধ পানি ও ফলের রসই বেশি কাজে লাগে। তিনি বলেন, ‘ইফতার কোথা থেকে সংগ্রহ করা হচ্ছে সেটিও গুরুত্বপূর্ণ। এক্ষেত্রে ঘরে তৈরি খাবারই সবচেয়ে নিরাপদ। বেশী তেলে ভাজা বাজারের ইফতার শরীরের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে’।
গোলাম মাওলা ও নাজমা শাহীন দুজনই মনে করেন তৈলাক্ত খাবার, ভাজা পোড়া বর্জন করাই ভালো। বরং ফল ও খেজুর শরীরে পুষ্টি ও শক্তি যোগাবে।

১. ভাজাপোড়া খাবার নয়
অধ্যাপক গোলাম মাওলা বলছেন মাছ ডাল ভাত আদর্শ খাবার। ভোররাতে গরুর মাংস এড়িয়ে মুরগী খেলে ভালো হবে। তবে প্রয়োজন শাক সবজি ও ডাল শরীরের জন্য ভালো হবে। অধ্যাপক নাজমা শাহীন বলছেন ব্যক্তিকেই আগে বুঝতে হবে কোনটি তার শরীরের জন্য ভালো হচ্ছেনা। যেটি ক্ষতিকর মনে হবে সেটিকে এড়াতে হবে।
২. খাদ্য তালিকায় কী থাকবে?
পানি, ফল, চিড়া, রুটি, ভাত, সবজি, ডাল, ডিম, হালকা খিচুড়ি খাওয়া যেতে পারে। গোলাম মাওলা বলছেন মানসম্পন্ন হালিম শরীরের জন্য উপকারী হবে। এটি শক্তি বাড়ায়।
৩. সতর্ক হয়ে খেতে হবে
বিরিয়ানি, তেহারির মতো খাবারকে ভারী খাবার হিসেবেই চিহ্নিত করা হয়। অধ্যাপক গোলাম মাওলা বলছেন মাঝে মধ্যে ইফতারির পর হালকা কম তেলযুক্ত তেহারি খাওয়া মন্দ না।
৪. নিয়মিত খাবারকে গুরুত্ব দিতে হবে
পুষ্টিবিদ নাজমা শাহীন বলছেন, সাধারণত একজন মানুষ নিয়মিত যেসব খাবার খান রোজার সময়েই সেগুলোই তার জন্য যথেষ্ট। তবে সারাদিন রোজা পালন শেষে পানি খেতে হবে পর্যাপ্ত। আর বেশি গরম পড়লে সাবধানতা অবলম্বন করতে হবে।
৫. শারীরিক পরিশ্রম কমানো ও শান্ত থাকা
রোজার সময় অতিরিক্ত শারীরিক পরিশ্রম সমস্যার কারণ হতে পারে। গোলাম মাওলা বলছেন একেবারে অলস থাকাও যেমন ক্ষতিকর তেমনি অতিরিক্ত পরিশ্রমও ক্ষতিকর হবে। তাই এসব বিষয়ে সাবধান হতে হবে।
৬. সহজে যাতে হজম হয়
অধ্যাপক নাজমা শাহীন বলছেন রোজা পালনকারী ব্যক্তিকে বুঝতে হবে কোন খাবার গুলো তার সহজে হজম হয়। এসব খাবারকেই বেশি গুরুত্ব দিতে হবে। যেসব খাবার হজমে সমস্যা করে সেগুলো না খাওয়াই ভালো। কারণ রোজার সময় শরীরের এনজাইম যা হজর প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তৈরি হয় সেটি বন্ধ থাকে।
৭. একবারে বেশি খাবার থেকে বিরত থাকা
অধ্যাপক গোলাম মাওলা বলছেন সারাদিন রোজা পালনের পর একবারে অনেক খাবার খেলে সেটি ক্ষতিকর হতে পারে। তাই কোনভাবেই অতিরিক্ত খাবার খাওয়া যাবেনা। বরং ফল ও সবজি দিয়ে পরিমাণ মতো ইফতার করা যেতে পারে বলে মনে করেন তিনি।
৮. খাবার কিভাবে খাবেন?
গোলাম মাওলা ও নাজমা শাহীন দুজনই বলছেন ধীরে ভালো করে চিবিয়ে খেতে হবে। ইফতারির শুরুতেই পানি শরীরের জন্য উপকারী। পাশাপাশি খেজুর শক্তি যোগাতে ভূমিকা রাখে।
৯. স্যুপ হতে পারে দারুণ খাবার
রোজার সময় সারাদিন পর স্যুপ শরীরকে সতেজ করতে পারে এবং খাবার হজম প্রক্রিয়া ঠিক রাখতেও এটি কাজে লাগে। অধ্যাপক গোলাম মাওলা বলেন শাক সবজি তবে বাধা কপি বাদ দিয়ে ফুলকপির স্যুপ বা লেটুস পাতার স্যুপ অনেক উপকারী। লেটুস পাতায় কোন গ্যাস হয়না। আর গাজর খেলে সেটি হালুয়া বানিয়ে অল্প খাওয়া যেতে পারে।
১০.খাবার ও জীবনাচরণ ঠিক রাখা
অধ্যাপক গোলাম মাওলা বলছেন শুধু খাবারই নয়, বরং এর পাশাপাশি প্রয়োজন পর্যাপ্ত ঘুম। আর কঠিন শারীরিক পরিশ্রম হয় এমন কাজ থেকে বিরত থাকতে হবে। ইফতারের পর বা সেহেরীর পর ধূমপান থেকেও বিরত থাকা উচিত।
১১. ঔষধ সেবন করবেন কিভাবে?
রমজানে সাধারণত কিছু সমস্যা হয় যার মধ্যে রয়েছে দুর্বলতা, ক্লান্তি কিংবা অ্যাসিটিডি। আর যারা ডায়াবেটিস, হৃদরোগ বা কিডনি জটিলতায় ভুগছেন তাদের অবশ্যই সতর্ক থাকতে হবে। অধ্যাপক গোলাম মাওলা ও অধ্যাপক নাজমা শাহীন দুজনই এসব বিষয়ে চিকিৎসকের পরামর্শকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। অধ্যাপক মাওলা বলেন চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে রোজা রেখেও ঔষধ সেবন করা সম্ভব। কারণ চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে ইফতার থেকে সেহরির সময়ে ঔষধ সেবন করা যায়।

ইফতারের ফজিলত

0 মন্তব্য(গুলি)
আজ পবিত্র রমজানের প্রথম দিবস পালিত হচ্ছে বাংলাদেশে। সময়ের পার্থক্যের কারণে বিশ্বের কোন কোন দেশে দ্বিতীয় দিবস। মুসলিম উম্মাহর প্রতিটি রোজার সমাপ্তি হয় ইফতারের মাধ্যমে। ইফতার একটি বরকতময় ইবাদত। হাদিসে এ বিষয়ে অনেক বর্ণনা আছে।
হাদীসে কুদসিতে এসেছে হযরত আবু হুরায়রা রা. হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসল্লাম ইরশাদ করেছেন, আল্লাহ তা’আলা বলেন, সেই বান্দা আমার অধিক প্রিয় যে যথা শীঘ্রই ইফতার করে(তিরমিযী)।

ইফতারের সময় রোজাদারের দোয়া কবুল হয়। এ বিষয়ে একাধিক হাদিস রয়েছে। হযরত আবু হযরত আবু হুরায়রা রা. হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসল্লাম ইরশাদ করেছেন, তিন ব্যক্তির দোয়া বৃথা যায় না। প্রথমতঃ ইফতারের সময় রোজাদারের দোয়া।
দ্বিতীয়তঃ ন্যায় বিচারক বাদশাহর দোয়া। তৃতীয়তঃ নির্যাতিত-মজলুমের দোয়া। আল্লাহ পাক তাদের দোয়া মেঘের ওপর উঠিয়ে নেন। আসমানের সকল দরজা এর জন্য খুলে যায় এবং পরওয়ারদেগার বলেন, আমার ইজ্জত ও জালালিয়াতের শপথ, আমি নিশ্চয়ই তোমায় সাহায্য করব। প্রয়োজনে তা বিলম্বিতও হতে পারে।
হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আমর ইবনে আস (রা.) হতে বর্ণিত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসল্লাম ইরশাদ করেছেন, ইফতারের সময় রোজাদারের একটি দোয়াও প্রত্যাখ্যাত হয় না।(ইবনে মাজাহ)
জেনে নিন সাহরির বরকত
রাসূল (সা.) সাহরির গুরুত্ব সম্পর্কে বিভিন্ন সময় বর্ণনা করেছেনরাসূল (সা.) সাহরির গুরুত্ব সম্পর্কে বিভিন্ন সময় বর্ণনা করেছেন

মাহে রমজানের অন্যতম একটি অংশ হলো সাহরি। রোজার প্রস্তুতি হিসেবে মুসলিমরা সুবহে সাদিকের আগে সাহরি খেয়ে থাকেন। রাসূল (সা.) সাহরির গুরুত্ব সম্পর্কে বিভিন্ন সময় বর্ণনা করেছেন। প্রিয় নবীজি তার সাহরিতে দুধ ও খেজুর খেতে পছন্দ করতেন বলে জানা যায়।
হযরত আনাস ইবনে মালিক (রা.) হতে বর্ণিত তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন তোমরা সাহরি খাও কারণ সাহরিতে বরকত রয়েছে। (বুখারি শরিফ)
আরেক হাদিসে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাহরি খাওয়াকে মুসলিম ও অমুসলিমদের রোজার মধ্যে পার্থক্য হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।
হযরত আমর ইবনে আস (রা.) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন নিশ্চয়ই আমাদের রোজা ও আহলে কিতাবদের(ইহুদি খ্রিস্টান) রোজার মধ্যে তফাৎ হলে সাহরি খাওয়া।(মুসলিম শরিফ)।

জাপানি নও-মুসলিম নারী অতসুকুু

Friday, December 1, 2017

0 মন্তব্য(গুলি)
ইসলামই বিশ্বের মহৎ ধর্ম, বললেন জাপানি নও-মুসলিম নারী অতসুকুু
২০০১ সালের ১১ ই সেপ্টেম্বরের রহস্যময় হামলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিশ্বের বহু প্রচারমাধ্যম ইসলাম ও মুসলমানদের বিরুদ্ধে ব্যাপক নেতিবাচক প্রচারণা শুরু করে তখন ইসলাম ধর্মের প্রকৃত চিত্র সম্পর্কে জানতে আগ্রহী হয়ে ওঠেন জাপানি যুবতী ‘অতসুকু হুশিনু’। ইসলাম সম্পর্কে ব্যাপক গবেষণা ও জানা-শোনার পর অবশেষে তিনি এই ধর্মের সুশীতল ছায়াতলে আশ্রয় গ্রহণ করেন।
‘অতসুকু হুশিনু’ ইন্টারনেটে অনুসন্ধান চালিয়ে সংগ্রহ করেন পবিত্র কুরআন। পবিত্র কুরআনের পরিপূর্ণতা ও সার্বজনীনতা অভিভূত করে অতসুকু হুশিনু-কে। আর এ জন্যই তিনি ঘণ্টার পর ঘণ্টা ধরে সবার থেকে দূরে থেকে ইন্টারনেট থেকে পবিত্র কুরআন পড়তেন তিনি যাতে এ মহাগ্রন্থের বাণীগুলো ভালোভাবে বুঝতে পারেন।
অতসুকু অত্যন্ত কোমল ও দয়ান্দ্র মনের মানুষ। তিনি পড়াশুনা করেছেন আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিষয়ে। বর্তমানে অতসুকু ইরানে রয়েছেন এবং তিনি ইসলাম ও বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মাদ (সা.)-এর পবিত্র আহলে বাইত সম্পর্কে ব্যাপক ধারণা অর্জনের চেষ্টা করছেন।
ইসলামের প্রতি ঈমান আনার ঘটনা তুলে ধরতে গিয়ে জাপানি যুবতী অতসুকু জানিয়েছেন, ১১ ই সেপ্টেম্বরের হামলার দৃশ্য বার বার দেখার পর প্রথম দিকে তিনি গভীরভাবে মর্মাহত হন। এরপর তার কাছে মনে হয়েছে এই ঘটনার সঙ্গে হলিউডের ছায়াছবিগুলোর বেশ মিল রয়েছে এবং ঘটনাটি এমন রহস্যময় যে এর পেছনে বা নেপথ্যে অনেক চালিকাশক্তি কাজ করছে। এই ঘটনার সঙ্গে ইসলাম ও মুসলমানদের জড়িয়ে অনেক নেতিবাচক কথা প্রচার করা হয়। আর সেইসব প্রচারণায় প্রভাবিত না হয়ে  বরং এ ধর্ম সম্পর্কে সত্যিকারের চিত্র জানতে আগ্রহী হন অতসুকু। এরপর অনুসন্ধান চালিয়ে দেখতে পান যে ইসলামই হচ্ছে বিশ্বের সবচেয়ে মহৎ ও বড় ধর্ম।
ইসলাম ধর্ম গ্রহণের প্রেক্ষাপট প্রসঙ্গে অতসুকুু বলেছেন: আমি বড় হয়েছি এক বৌদ্ধ পরিবারে। বৌদ্ধরা নিজ ধর্ম বিষয়ে খুবই রক্ষণশীল। আমার এক চাচা জাপানি সংসদে বৌদ্ধ ধর্মের প্রতিনিধি ছিলেন। তাই এ ধর্ম সম্পর্কে আমার গভীর জানাশোনা ছিল। আমার আরেক চাচা ছিলেন পুরোহিত। তিনি খ্রিস্টানদের বাইবেলও পড়েছেন। ফলে খ্রিস্ট ধর্মের সঙ্গেও আমি পুরোপুরি পরিচিত ছিলাম। আমার মনে কোনো কোনো বিষয়ে কিছু প্রশ্ন জাগতো, কিন্তু কেউই সেইসব প্রশ্নের জবাব দিতে সক্ষম হননি। কিন্তু ইসলামের সঙ্গে পরিচিত হওয়ার পর আমার জীবনের রঙ ও ঘ্রাণ বদলে যায়। মুসলমানদের ধর্মগ্রন্থ পবিত্র কুরআন প্রথমবারের মত পড়েই মনে হয়েছে যে, সত্যিই তা আসমানি বা ঐশী কিতাব এবং অন্য ধর্মগ্রন্থগুলোর সঙ্গে এর রয়েছে আকাশ-পাতাল পার্থক্য। তাই বুঝলাম যে ইসলামই প্রকৃত আল্লাহপ্রদত্ত ধর্ম। পবিত্র কুরআন আমার মনের অনেক প্রশ্নের উত্তর দিয়েছে এবং দূর করেছে দ্বিধা-দ্বন্দ্ব। ফলে ইসলামের দিকে আরো গভীরভাবে ঝুঁকে পড়ি এবং ইসলাম ধর্ম গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেই।
নিজের ওপর পবিত্র কুরআনের অমূল্য ও অতুলনীয় বাণীর প্রভাব প্রসঙ্গে জাপানি নওমুসলিম অতসুকুু বলেছেন: আমি যা কিছু পেয়েছি তা এই কুরআন থেকেই পেয়েছি। কুরআনই আমাকে চিনিয়েছে ধর্মের বাস্তবতা ও এর ফলে আমি মুসলমান হয়েছি। এ মহাগ্রন্থ আমাকে দিয়েছে প্রশান্তি এবং কুরআনের নির্দেশনা পেয়েই আমি কঠোর পরিস্থিতিতেও ধৈর্য ধরেছি ও হিজরত করেছি নিজ দেশ থেকে এমন এক দেশে যে দেশ আর তার জনগণ সম্পর্কে আমার কোনো ধারণাই ছিল না। এই দেশে আমি ছিলাম আগন্তুক বা প্রবাসী; কিন্তু কুরআনের কারণেই আমি এখানে নিঃসঙ্গতা অনুভব করিনি। কুরআন সব সময়ই আমার জন্য আলো ও মুক্তির উৎস। এ মহাগ্রন্থ আমাকে ভয় ও নিঃসঙ্গতার শিকার হতে দেয়নি। যে কেউ কুরআন পড়লে অবশ্যই সুপথ বা মুক্তির দিশা পাবেন। আমি আমার সমগ্র অস্তিত্বের মধ্যে এই মহাসত্যটি অনুভব করছি।
জাপানি নওমুসলিম অতসুকু মহানবী (সা.)র পবিত্র আহলে বাইতের সদস্য নবী-নন্দিনী হযরত ফাতিমা জাহরা সালামুল্লাহি আলাইহাকে গভীরভাবে ভালবাসেন। আর তাই মুসলমান হওয়ার পর নিজের নাম হিসেবেও বেছে নিয়েছেন জ্যোতির্ময় ও পবিত্র এই নাম। তিনি হযরত ফাতিমা (রা.)’র জীবনী ও বাণী অধ্যয়ন করে নিজেকে তাঁরই আদর্শের অনুসারী হিসেবে গড়ে তোলার চেষ্টা করছেন।
অতসুকু তার স্বামীর সঙ্গে বিবাহ-বন্ধনে আবদ্ধ হওয়ার আগে ইন্টারনেটে হযরত ফাতিমা (রা.)-এর জীবনী সম্পর্কে জেনেছেন। বিশ্বের সর্বকালের সেরা এই নারীর জীবনাদর্শ তাকে এতটা অভিভূত করেছে যে তিনি নিজেকে তাঁরই অনুসারী হিসেবে গড়ে তুলতে আগ্রহী হন। এই মহিয়সী নারী হযরত আলী (রা.)-এর সঙ্গে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়েছেন অতি সামান্য মোহরানা নিয়ে, আর কনের জন্য নির্ধারিত সেই  পুরস্কার বা মোহরানাও সংগ্রহ করা হয়েছিল আলী (রা.)-এর বর্ম বিক্রি করার মাধ্যমে। -এ ঘটনাও জাপানি নওমুসলিম অতসুকুকে গভীরভাবে প্রভাবিত করেছে। ফলে তিনিও নিজের জন্য একই ধরনের পরিস্থিতি কামনা করেছেন মহান আল্লাহর কাছে যাতে নবী-নন্দিনীর মতই আচরণ করতে পারেন।
এরপর অতসুকু বিয়ের মোহরানা হিসেবে স্বামীর কাছে কেবল একটি স্বর্ণমুদ্রা দাবি করেন এবং তা দিয়েই নতুন সংসারের জন্য প্রয়োজনীয় বা জরুরি জিনিসগুলো কেনেন। এত কম পরিমাণ মোহরানা নেয়ার জন্য তিনি মোটেই অনুশোচনা করছেন না, বরং দাম্পত্য জীবন শুরু করার ক্ষেত্রে হযরত হাসান ও হুসাইনের মাতা ও আলী (রা.)-এর স্ত্রী হযরত ফাতিমা জাহরা (রা.)-এর আদর্শ অনুসরণ করতে পেরে গভীর আধ্যাত্মিক তৃপ্তি অনুভব করছেন। তার মতে মাত্র এই একটি স্বর্ণমুদ্রা তার জীবনে এনেছে অনেক বরকত বা প্রাচুর্য। আর এ জন্য তথা ফাতিমা জাহরা (রা.)-এর আদর্শ অনুসরণের সুবাদে এতো বরকত পেয়ে অতসুকু মহান আল্লাহর কাছে কৃতজ্ঞ।
অতসুকুর পরিবার তার মুসলমান হওয়ার প্রবল বিরোধিতা করেছিল। বিষয়টা তাদের কাছে ছিল বিনা মেঘে বজ্রপাতের মত। প্রথমে তারা বিষয়টিকে বিশ্বাসই করেননি। পরে দেখলেন যে তাদের মেয়ে নিজেকে অনেক কিছু থেকেই দূরে রাখছে, বিশেষ করে তারা যখন দেখলেন যে অতসুকু হারাম গোশত খাচ্ছেন না তখন তারা বিরোধিতা জোরদার করেন।
এবার তারা অতসুকুর ওপর অর্থনৈতিক ও মানসিক চাপসহ নানা ধরনের চাপ দিতে থাকে ও তাকে হয়রানি করতে থাকে যাতে সে ইসলাম ধর্ম ত্যাগ করে। অতসুকুর সমস্ত বন্ধু ও ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিরাই তাকে ত্যাগ করেন। ফলে পরিবার ও নিজ শহরে নিঃসঙ্গ ও কোণঠাসা হন অতসুকু। অত্যন্ত কঠিন সেই দিনগুলোতে ইন্টারনেটে পবিত্র কুরআনই ছিল তার একমাত্র সঙ্গী যে তাকে যোগাতো প্রশান্তি ও সহায়তা। কুরআনের সহায়তার কারণেই তিনি সে সময় নিজ ঈমানের ওপর অবিচল থাকতে পেরেছেন। নানা ধরনের চাপ অতসুকুর ঈমানকে বরং আরো মজবুত করে দেয়। ফলে চাপ ও হয়রানি বাড়তেই থাকে। কিন্তু প্রশান্ত হৃদয়ে সব সহ্য করে যান তিনি। এ সময় অতসুকু পবিত্র কুরআনের নির্দেশনা অনুযায়ী কেবল আল্লাহর ওপরই ভরসা করতেন ও আশার আলো দেখতেন।
অতসুকু হুশিনু থেকে ফাতিমা হুশিনুতে পরিণত হওয়া জাপানি নারী ইসলাম সম্পর্কে ভালোভাবে জানার জন্য ইরানে আসেন। কোনো একটি ইসলামী দেশে জীবন যাপন করা ছিল হুশিনুর বহু বছরের স্বপ্ন। তার সেই স্বপ্ন পূরণ হওয়ার ফলে একটি অমুসলিম দেশে মুসলমানিত্ব বজায় রাখার কঠোরতা থেকে মুক্তি পান তিনি।  ইরানিদের দয়া ও অতিথিপরায়নতাও মুগ্ধ করেছে জাপানি এই নওমুসলিমকে।

একজন ইহুদি নারী

0 মন্তব্য(গুলি)
সান্দ্র থেকে সালমা
তিনি একজন ইহুদি নারী। জীবনের নানা বাধা-বিঘ্নতায় ছিলেন কিছুটা ক্লান্ত। শান্তির সন্ধানে ছুটেছেন দেশ-দেশান্তরে। অবশেষে আজানের মধুর ধ্বনি তার মনে আনে পরিপূর্ণ শান্তি। খুঁজে পান ইসলামের পরশ। না, তাকে ইসলাম গ্রহণে কেউ বাধ্য করেনি। হিজাব পরতেও তাকে বাধ্য করা হয়নি। তিনি নিজেই এটি বেছে নিয়েছেন। তিনি হলেন সান্দ্রা নাউয়ি। ইসলাম গ্রহণ করেছেন তিনি।
সান্দ্রার মুখেই শুনুনু ইসলামের পথে তার যাত্রার হৃদয়গ্রাহী বর্ণনা:
আমার জীবনে সবসময়ই কিছু একটার অভাব অনুভব করতাম। আমি ধর্মের অর্থ খুঁজতে সচেষ্ট হই-কিন্তু সব ভুল জায়গায় এবং সব ভুল উপায়ে।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শেষে ইউরোপ অনেকটাই ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়। যুদ্ধের সময় আমার পরিবার লুকিয়ে ছিল। আমার পিতামহকে বন্দী করার পর তাকে ক্যাম্পে নিয়ে যাওয়া হয়। এই সময় আমার মা তার পিতাকে হারায়।
১৯৫৭ সালে আমার বাবা-মা জার্মানির ম্যানহেইম থেকে কানাডায় চলে যায়। আমার বাব-মা ইহুদি এবং ইহুদি পরিবারেই আমার জন্ম। যুদ্ধের পর আমার বাবা-মা উভয় বেশ তিক্ত ছিল এবং অনেকটা বাধ্য হয়েই নতুন দেশে একটি নতুন জীবন শুরু করতে চেষ্টা করে।
তারা কানাডায় কানাডিয়ানদের মত হতে কঠোর চেষ্টা করে। তারা সেখানে তাদের নাম পরিবর্তন করে এবং তাদের ঐতিহ্যকে অনেকটা দূরে সরিয়ে রাখে।
আমি আমার বাবা-মা থেকে ভিন্ন ছিলাম। আমি আমার ইহুদি বিশ্বাসকেই গ্রহণ করি কিন্তু আমি তখনও কিছু একটার সন্ধানে ছিলাম। আমি জানি না সেটা কি।
যখন আমার অনুসন্ধান শেষ, সান্দ্রা তখন আর নেই। সান্দ্রার স্থান দখল করে হয় সালমা। ইহুদি ধর্ম থেকে ইসলাম গ্রহণ করার সময় আমি সালমা নামটি বেছে নেই। কেননা সালমা (উম্মে সালমা) ছিলেন মহানবীর (সা.) স্ত্রীদের একজন।
তিনি ছিলেন এমন একজন নারী যিনি সবাইকে দেখাশোনা করতেন এবং এটি আমার নিজের নামের সাথে বেশ ঘনিষ্ঠ। কেননা আমি আমার সান্দ্রা নামের অর্থ অনুসন্ধান করে জেনেছি, সান্দ্রা মানে মানবজাতির সাহায্যকারী।
ইসলামে প্রথম পরিচয় :
সম্ভবত আমার যখন ১৩ বছর বয়স, তখন ক্যাট স্টিভেন্স নামে এক লোকের কথা জানতে পারি যিনি ইসলামে ধর্মান্তরিত হয়েছিল এবং যিনি এখন ইউসুফ ইসলাম নামে পরিচিত। আমাকে তার এই বিষয়টি মুগ্ধ করে এবং তখন থেকেই ইসলাম সম্পর্কে জানতে চেষ্টা করি।
আমার টিনেজার বয়সটি ছিল আমার জন্য বেশ চ্যালেঞ্জিং। আমি বিদ্রোহী টাইপের ছিলাম না। আমি কেবলই অসন্তুষ্ট ছিলাম। আমি বাড়িতে কিছুতেই স্বস্তি পাচ্ছিলাম না। এই কারণে আমি ১৭ বছর বয়সে বাড়ি ত্যাগ করি।
২০০১ সালে আমি এক মাতাল ড্রাইভারের আঘাতের শিকার হই। তার আঘাতের কারণে আমাকে পুনরায় হাটতে শিখতে হয়। এই মাতাল ড্রাইভার আমার গাড়িতে আঘাত হানে। তার আঘাতে আমার গাড়ি বাতাসের সাথে উড়তে থাকে। আমি আমার জীবনের আশা ছেড়েই দিয়েছিলাম। আমার কাছে কেবলই মনে হয়েছিল, আমি নিশ্চিত মারা যাচ্ছি।
দুর্ঘটনাটি এমন একসময়ে ঘটে যখন আমি আমার জীবন নিয়ে অনেকটা দ্বিধাদ্বন্দ্বে ভুগছি। আমি সত্যিই জানতাম না আমি আসলে আমার বাকি জীবনে কি করতে চাচ্ছি।
আমার জীবনের সবচেয়ে বড় টার্নিং পয়েন্ট হচ্ছে আমার মায়ের ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়া এবং ২০০৫ সালে তার মৃত্যু এবং এই সমস্ত ঘটনা আমাকে ইসলামের প্রতি ধাবিত করে।
আজানের মধু ধ্বনি:
২০০৫ সালে আমি ভারত যাই। এটি ছিল আমার মায়ের মৃত্যুর দুই সপ্তাহ পর। আমি যখন সেখানে যাই তখন ছিল রমযান মাস। সেখানে প্রথম রাতে আমি ঘুমোতে যাই। ভোর ৫ টায় আযানের শব্দে আমার ঘুম ভেঙ্গে যায়।
আযানের শব্দের বিশাল শক্তি আমাকে মুগ্ধ করে। আমি আসলে কিছুটা আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে পড়ি। আমি জানালার কাছে গিয়ে দাঁড়িয়ে থাকি। দূর থেকে ভেসে আসা এই আজান আমার মনে পরিপূর্ণ সুখ, শান্তি ও একাত্মতার অনুভূতি সৃষ্টি করে। আমি আনন্দে কেঁদে ফেলি। আমার এই কান্না ছিল বিশ্বাসের কান্না।
কালেমা পাঠ:
আমি কালেমা শাহাদাহ পাঠ করতে এক ইমামের দ্বারস্থ হই। তার নিকট গেলে তিনি আমাকে এই সর্ম্পকে ধারণা দেন।
তিনি আমাকে বলেন, ‘কালেমা শাহাদাহ হচ্ছে ইসলামের একটি ঘোষণা। এটি কেবলমাত্র একটি স্বীকৃতি। এটি হল তাই যা আপনি বিশ্বাস করেন। আপনি ইসলামের প্রতি আপনার বিশ্বাস ঘোষণা করেছেন এবং আপনাকে নিম্নলিখিত দুটি বাক্য বলতে হবে যা সাক্ষ্য হিসেবে বহন করবে। আর তা হল, আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া আর কোনো উপাস্য নেই এবং আমি আরো সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, হযরত মুহাম্মদ (সা.) তার রাসূল।’
বিন্দুমাত্র বিলম্ব না করে আমরা এটি করতে অগ্রসর হলাম এবং সর্বশক্তিমান আল্লাহ নিকট তার আশীর্বাদ চাইলাম এবং ঐ আনন্দের মুহূর্তে আমরা সবাই সাক্ষী হলাম।
আমি ইমামের সাথে সাথে বললাম, তিনি আমাকে এর অর্থ করে শুনালেন, আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া আর কোনো উপাস্য নেই এবং আমি আরো সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, হযরত মুহাম্মদ (সা.) তার রাসূল। আমার শাহাদাহ পাঠের পর তিনি আমাকে অভিনন্দন জানান। তিনি বললেন, ‘জাযাকাল্লাহ খায়রান। আল্লাহ আকবর, আলহামদুলিল্লাহ।’
আমার ইসলাম গ্রহণের এই কথা আমার পরিবার এবং বন্ধুদের মাঝে বলাটা একটু কষ্টকর ব্যাপারই ছিল। আমি বলতে চাচ্ছি, এটি বলার আমার কোনো উপায় ছিল না যে, আমি ইহুদিধর্ম ত্যাগ করে মুসলিম হয়ে গেছি।
হিজাব পরিধান:
আমি প্রথম যখন হিজাব পরতে শুরু করি, প্রথম চার সপ্তাহ ভয়ঙ্কর স্নায়ুবিক দুর্বলতায় ভুগতাম। আমার কথা এবং চিন্তা সম্পর্কে অন্যদের প্রতিক্রিয়া কি হবে এটি ভেবেই স্নায়ুবিক অস্বস্তিতে ভুগতাম। কিন্তু প্রথম এই চার সপ্তাহ পরেই স্বস্তিবোধ করি।
হিজাবের প্রতি মানুষের প্রতিক্রিয়ায় আমি ক্রমাগত বিস্মিত হয়েছি। সমস্যাটি হল উত্তর আমেরিকার মানুষেরা হিজাব পরিহিত নারীকে নিপীড়িত এবং পরাধীন হিসেবে মনে করেন। হয়তো কিছু দেশে কিংবা কিছু শাসন ব্যবস্থায় এটি সত্য হতে পারে কিন্তু কানাডার জন্য নয়। এখানে আমাদের পছন্দের স্বাধীনতা রয়েছে এবং আমি এটিই বেছে নিয়েছি।
আমি মনে করি, তারা যাই মনে করুক না কেন নারীদের শরীর ঢেকে রাখতে হিজাব পরিধান করা অতি জরুরি। পবিত্র কুরআনেও তাই বলা হয়েছে। হিজাব পরে আমি সত্যিই স্বস্তি অনুভব করি। আমি আনন্দিত এটি পরে। এখন তো হিজাব ছাড়া বাইরে জনম্মুখে যাওয়ার কথা কল্পনাও করতে পারি না।
প্রথমবারের মত আমি যখন হিজাব পরে আমার কর্মস্থলে যাই, তখন আমি সামান্য নার্ভাস ছিলাম। আমি শহরের কেন্দ্রস্থলে একটি লিগ্যাল ফার্মে আইনি সহকারী হিসাবে কাজ করছি, সুতরাং পোশাকের ব্যাপারে সামান্য রক্ষণশীলতার বিষয় রয়েছে।
আমি আমার সহকর্মীদের কাছ থেকে যে অভ্যর্থনা পেয়েছি তা অধিকাংশ ক্ষেত্রেই ছিল মধুর। তবে কেউ কেউ মুখে ভেংচি কাটত, কেউ আবার কৌতুকপূর্ণ দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকত এবং আমার অনেক সহকর্মী আমার ডেস্কের পাশ দিয়ে যেতে সঙ্কোচবোধ করত।
দুঃখের বিষয় হল, আমার সবচেয়ে খারাপ এক অভিজ্ঞতা হয়েছে যা আমি মুসলিম সম্প্রদায় থেকে পেয়েছি। এক শুক্রবার আমি জুমার নামাজের জন্য বের হই। পথিমধ্যে আমার ফোন বেজে ওঠে এবং এটি ছিল একজন মুসলিম মহিলার ফোন।
তিনি আমাকে বলেন, ‘আপনি এখনও হিজাব পরেন?’ আমি তাকে উত্তরে বললাম ‘হ্যাঁ’।
এবং তিনি আমাকে বললেন, ‘ও আচ্ছা, আমার সব বন্ধুরা তো হতবাক কেমন করে এক শ্বেতাঙ্গ মেয়ে মুসলিম হওয়ার ভান করছে।’
তাদের এই ধরনের মন্তব্য আমার হৃদয়ে আঘাত করে। এই কারণে যে আমি কোনো ভান করছি না।
আমি উত্তর আমেরিকান হওয়ার কারণে লোকজন সবসময় এমনটি মনে করে থাকে এবং তারা মনে করে, আমি ইসলামে ধর্মান্তরিত হয়ে রাজনৈতিক বিবৃতি সৃষ্টি করছি। কিন্তু আমি মনে করি বিবৃতি সৃষ্টি করার চেয়েও বড় কথা হল আমি কে। আমি একজন মুসলিম এবং আমি হিজাব পরিধানকেই বেছে নিয়েছি। এখানে একটি মিথ প্রচলিত আছে আর তা হল লোকজন নিশ্চিত ধরে নেয় যে, উত্তর আমেরিকান মহিলাদের মধ্যে যারা ইসলামে ধর্মান্তরিত হয়েছে, তারা সবাই বিবাহিত, তিনি অবশ্যই এটি করেছেন তার স্বামীর জন্যই। যথেষ্ট বিস্ময়কর, কিন্তু আসলে তা নয়।
আমি একজন মুসলিম নারী। আমি আমার সঙ্গীর সাথে সাক্ষাৎ হওয়ার অনেক পূর্ব থেকেই হিজাব পরছি। আমার স্বামী শেখ জামাল জাহাবি ১৯৮০ সালে লেবানন থেকে কানাডায় আসেন। তিনি একটি ইসলামী কেন্দ্রের একজন ইমাম। আমি তার সর্ম্পকে জানতাম। কিন্তু আমাদের পারস্পরিক বন্ধুত্বপূর্ণ সর্ম্পক তখনও পর্যন্ত ছিল না যতক্ষণ পর্যন্ত না আমরা জানতে পারি আমরা কতটা অভিন্ন।
আমার বাবার সঙ্গে এখনও পর্যন্ত হিজাব পরা অবস্থায় আমার দেখা হয়নি এবং এখনও পর্যন্ত আমার স্বামীর সঙ্গে তার সাক্ষাৎ হয়নি। আমরা একটি পরিবার হিসাবে বাবার কাছে যাচ্ছি। যদিও আমি কিছুটা নার্ভাস অনুভব করছি। আমার বাবা কি বলবে সেসর্ম্পকে আমি ঠিক নিশ্চিত নই এবং তিনি কিভাবে প্রতিক্রিয়া দেখাবে সে সর্ম্পকেও আমি নিশ্চিত নই।

আরেক নির্জাতিত মুসলিম উইঘুর

Saturday, June 25, 2016

0 মন্তব্য(গুলি)

 চীনের পশ্চিমাঞ্চলীয় প্রদেশ ঝিনঝিয়াংয়ে উইঘুর সম্প্রদায়ের আবাস। তবে পূর্ব ও মধ্য এশিয়ায় কিছু কিছু এলাকাতেও রয়েছে এ জাতির মানুষেরা। দ্রুতহারে কমে আসা এই জাতিটি কিছুদিন পরপরই বিশ্ব আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে আসে। রাষ্ট্রীয় দমন-নিপীড়নের কারণে প্রতিনিয়ত এদের রক্তে রঞ্জিত হচ্ছে চীন ।

কারা এই উইঘুর


উইঘুর জাতির ইতিহাস প্রায় ৪ হাজার বছর আগের। মূলত এরা স্বাধীনপূর্ব তুর্কিস্তানের অধিবাসী। পূর্ব তুর্কিস্তান প্রাচীন সিল্ক রোডের পাশে অবস্থিত মধ্য এশিয়ার একটি দেশ, যার চতুর্পাশ্বে চীন, ভারত, পাকিস্তান, কাজাখস্তান, মঙ্গোলিয়া ও রাশিয়ার অবস্থান। এ অঞ্চলের বেশিরভাগ দেশেই উইঘুর সম্প্রদায়ের বাস রয়েছে। ২০০৯ সালের এক হিসাব অনুযায়ী এসব দেশের মধ্যে চীনের ঝিনঝিয়াংয়ে ১ কোটি ২০ হাজারের মতো উইঘুর লোক বসবাস করে। কাজাখস্তানে ২ লাখ ২৩ হাজার, উজবেকিস্তানে ৫৫ হাজার, কিরগিজস্তানে ৪৯ হাজার, তুরস্কে ১৯ হাজার, রাশিয়ায় ৪ হাজার, ইউক্রেনে ১ হাজারের মতো উইঘুর সম্প্রদায়ের লোক বাস করে।

এদের ভাষা উইঘুর। প্রাচীনকালে এ ভাষার বর্ণমালা উইঘুর হরফে লেখা হতো। নবম শতকের আগ পর্যন্ত পূর্বতুর্কিস্তান বৌদ্ধদের এক বড় তীর্থভূমি ছিল। এরপর তারা মুসলমানদের সংস্পর্শে এসে ইসলাম গ্রহণ করতে থাকে। বর্তমানে প্রায় ৯০ লাখ মুসলিম উইঘুর পূর্বতুর্কিস্তানের সংখ্যাগরিষ্ঠ জনপদে পরিণত হয়েছে। ইসলাম গ্রহণের পর ১৩শ শতাব্দী থেকে বিংশ শতাব্দী পর্যন্ত উইঘুর বর্ণমালা আরবি হরফে লেখা হতো। এরপর কিছুদিন অন্য হরফে লেখা হলেও ১৯৮৫ সাল থেকে আবারো সরকারিভাবে আরবি হরফ চালু হয়েছে।

বিংশ শতাব্দীর প্রথমদিকেও প্রাচীন এ সম্প্রদায়ের লোকদের উইঘুর না বলে বিভিন্ন দেশে বিভিন্ন নামে ডাকা হতো। মূলত ১৯২১ সালে উজবেকিস্তানের রাজধানী তাশখন্দে একটি সম্মেলনের পর উইঘুররা তাদের পুরনো

পরিচয় ফিরে পায়। ভাষাবিদ ও ইতিহাসবেত্তারা এ ব্যাপারে নিশ্চিত হয়েছেন যে, উইঘুর শব্দটি উয়্যুঘুর শব্দ থেকে এসেছে। এর অর্থ সংঘবদ্ধ ।

১৯১১ সালে মাঙ্কু সা¤্রাজ্য উৎখাতের মাধ্যমে পূর্ব তুর্কিস্তানে চীনা শাসন চালু হয়েছে। কিন্তু স্বাধীনচেতা বীর উইঘুররা এই বৈদেশিক শাসনের সামনে মাথা নোয়ায়নি। এ কারণে ১৯৩৩ এবং ১৯৪৪ সালে তারা দুবার চীনাদের সাথে সাহসিকতার চরম পরাকাষ্ঠা প্রদর্শন করে স্বাধীনতা অর্জন করে। কিন্তু ভাগ্য তাদের অনুকূলে ছিল না। ফলে ১৯৪৯ সালে আবারো তারা চীনা কমিউনিস্টদের হাতে পরাজিত হয় আর ঝিনঝিয়াং উইঘুর স্বায়ত্তশাসিত প্রদেশ গড়ে ওঠে। তখন ঝিনঝিয়াংয়ে কমিউনিস্ট পার্টির গভর্নর ছিলেন সাইফুদ্দিন আজিজি ।

কষ্ট ও নির্যাতন ভোগ

চীনের আদি মুসলিম বসতি স্থাপনকারীরা সব ধরনের কষ্ট ও নির্যাতন সহ্য করেছেন। মানচু রাজবংশের (১৬৪৪-১৯১১) স্বৈরশাসনকাল ছিল মুসলমানদের জন্য এক কালো অধ্যায়। এই মেয়াদে মুসলমানদের বিরুদ্ধে ৫টি অভিযান পরিচালিত হয়। লানচু যুদ্ধ, ১৮২০-২৮, কানিও যুদ্ধ ১৮৩০, সিনকিয়াং যুদ্ধ ১৮৪৭, ইউনান যুদ্ধ ১৮৫৭ এবং শানসি যুদ্ধ ১৮৬১। এই সময়ে মুসলমানদের নির্বিচারে হত্যা করা হয় এবং মসজিদগুলো সম্পূর্ণ গুড়িয়ে দেয়া হয়। এরকম প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও ইসলামের এক বীর ইয়াকুব বেগ (১৮২০-৭৭) গোটা তুর্কিস্তান মুক্ত করেন এবং সেখানে ইসলামি আইন (১৮৬৭-৭৭) প্রতিষ্ঠার প্রাণপন প্রচেষ্টা চালান। ১৯৪৯ সালে কমিউনিস্টরা পূর্ব তুর্কিস্তানের (ঝিনঝিয়াং) দখল নেয়ার পর এই অঞ্চলের সাথে বাইরের যোগাযোগ বলতে গেলে একেবারে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। সাংবাদিকদেরকেও সেখানে যেতে দেয়া হয় না। বিবিসির সাংবাদিককেও সেখান থেকে তাড়িয়ে দেয়া হয়। সোভিয়েত ইউনিয়নের স্ট্যালিনবাদী শুদ্ধি অভিযানের মতোই এখানে অভিযান চলে। তাই তখনকার পরিস্থিতি সম্পর্কে বিশদ বর্ণনা পাওয়া যায় না।

চীনে মুসলমানদের সংখ্যা

সিআই-এর ওয়ার্ল্ড ফ্যাক্টবুক অনুযায়ী চীনের মোট জনসংখ্যার ১-২ শতাংশ মুসলিম। অপরদিকে মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আন্তর্জাতিক ধর্মীয় স্বাধীনতা প্রতিবেদনে দেখা যায়, মুসলিমরা চীনা জনসংখ্যার ১.৫ শতাংশ। সাম্প্রতিক আদমশুমারির হিসাব মতে, চীনে প্রায় ২ কোটি ২০ লাখ মুসলমানের আবাস, যা চীনের মোট জনসংখ্যার ১.৬ শতাংশ। ২০১১ সালের হিসাব অনুযায়ী চীনের বর্তমান জনসংখ্যা ১৩৩ কোটি ৬৭ লাখ ১৮ হাজার। অপরদিকে চীনের মুসলিম সংগঠনগুলোর দাবি অনুযায়ী, চীনে মুসলমান সংখ্যা সরকারি রিপোর্টের চেয়ে অনেকগুণ বেশি। তাদের মতে চীনে সাড়ে ৬ কোটি থেকে ১০ কোটি মুসলমান বাস করে, যা চীনা জনসংখ্যার সাড়ে ৭ শতাংশ। চীনের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় প্রদেশ ঝিনঝিয়াং, গানসু ও নিংঝিরায় মুসলমানদের সবচেয়ে বেশি বসবাস। এছাড়া দক্ষিণ-পশ্চিম চীনের ইউনান প্রদেশ এবং মধ্য চীনের হেনানে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মুসলমানের বসবাস রয়েছে।

উইঘুর মুসলমান : খুন-হত্যা, গুম-অপহরণ যাদের নিত্যসঙ্গী

তুর্কিস্তান থেকে চীনে আসা সম্প্রদায় উইঘুর। মঙ্গোলিয়া এবং তিব্বতের মাঝখানে এক পাহাড়ি ভূমিতে বসবাসকারী এই জাতিটি সম্পর্কে প্রচলিত ধারণা হলো, তারা অতিমাত্রায় সাহসী যোদ্ধা এবং দুর্দমনীয়। একসময় এশিয়া মহাদেশের বড় অংশ যার দখলে ছিল, সেই চেঙ্গিস খাঁ এবং হালাকু খাঁর বাহিনীতে এদের যথেষ্ট সমাদর ছিল। কিন্তু ১৯৪৯ সালে তুর্কিস্তান চীনা বিপ্লবের সময় চীনের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যায়। চিরস্বাধীনচেতা ও মুসলিম সংখ্যাঘরিষ্ঠ এই জাতিটি বর্তমানে চীনের বিরুদ্ধে স্বাধিকার ও স্বাধীনতার জন্য প্রাণপন লড়াই করছে। নিজস্ব ভাষা ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য রক্ষার জন্য প্রতিবছর শতশত উইঘুর মুসলিম যুবক শাহাদতের অমীয় সুধা পান করছেন। আর চীন সাম্যবাদের নামে তাদের সাংস্কৃতিক স্বাতন্ত্র্যকে বিলুপ্ত করার এক রক্তক্ষয়ী হোলিখেলায় মেতে উঠেছে। শত শত নিহতের সংখ্যা প্রায়ই মাত্র ১২ জন, অথবা ১৭ জন নিহত বলে রাষ্ট্রীয়ভাবে প্রচার করছে। প্রতিরোধ করার নিমিত্তে অস্ত্র হাতে নিলেও তাদের অন্যায়ভাবে বিশ্বের সামনে ফলাও করে উপস্থাপন করা হচ্ছে উগ্রপন্থি, সন্ত্রাসী, মানবতার শত্রু আর দাঙ্গা সৃষ্টিকারী হিসাবে। ধর্মীয় এবং জাতিগত কারণে তারা বারবার চীনা প্রশাসনযন্ত্রের নির্যাতনে নিষ্পেষিত হলেও তাদের দিকেই তোলা হয় অভিযোগের তীর। মামলা হামলায় বিপর্যস্ত হয় তাদের সাধারণ জীবন। বিষয়টি স্পষ্টভাবে ফুটে ওঠার জন্য নমুনাস্বরূপ কয়েকটি ঘটনা নিম্নে তুলে ধরছি, যা থেকে ঘটনার ভয়াবহতা সম্পর্কে সামান্য ধারণা পাওয়া যাবে।

হান সম্প্রদায় বরাবরই হামলা চালায় উইঘুর মুসলমানদের ওপর। বর্তমানে ঝিনঝিয়াংয়ের ৪৫ শতাংশ উইঘুর মুসলমান। স্বাধিকার প্রতিষ্ঠায় তারা দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন চালিয়ে আসছে। এর ফলে চীনা প্রশাসনের মদদে সেখানে অবৈধভাবে বসতি স্থাপনকারী হান বৌদ্ধদের হাতে চরম জুলুম-নির্যাতনের শিকার

হচ্ছেন উইঘুররা। তবে সবচেয়ে বড় দাঙ্গার ঘটনাটি ঘটে ২০০৯ সালের জুলাই মাসে। ওই সময় ঝিনঝিয়াংয়ের আঞ্চলিক রাজধানী উরুমকিতে মুসলমানদের ওপর হান সম্প্রদায়ের হামলায় অন্তত ২০০ জন উইঘুর প্রাণ হারায়। এ ঘটনায় আহত হয় ১ হাজার ৭০০ জনেরও বেশি উইঘুর মুসলিম। চীনা কতৃপক্ষ ঝিনঝিয়াংয়ের সহিংসতার জন্য চিরাচরিত নিয়ম অনুযায়ী উগ্রপন্থি মুসলমানদের! দায়ী করে। তবে উইঘুররা বিবিসি প্রতিনিধিকে জানান, সরকার তাদের ওপর কঠোর জুলুম-নিপীড়নকে বৈধতা দেয়ার লক্ষ্যে উগ্রপন্থিদের হুমকিকে অতিরঞ্জিত করে প্রচার করছে ।

গত ২০১৩ সালের ৩০ ডিসেম্বরে উত্তেজনাপূর্ণ ঝিনঝিয়াংয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর হাতে ৮ জন উইঘুর মুসলিম নিহত হন। যদিও কতৃপক্ষের অভিযোগ, ছুরি ও বিস্ফোরকদ্রব্য নিয়ে ৯ জন উইঘুর মুসলিম যুবক থানায় হামলা চালায় এবং গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়। চীনের সরকারি বার্তাসংস্থা সিনহুয়ায় প্রশাসন এ অভিযোগ করলেও তা সম্পূর্ণ অস্বীকার করে উইঘুর কংগ্রেস বলেছে, এই হত্যাকা- শান্তিকামী সংখ্যালঘুদের ওপর চালানো নির্যাতনের আরেকটি ভয়ানক কাহিনি। ওয়ার্ল্ড উইঘুর কংগ্রেসের প্রেসিডেন্ট রাবেয়া কাদির গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে অভিযোগ করেন যে, সাম্প্রতিক ঘটনা থেকে স্পষ্ট প্রতিয়মান হয় যে, রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় উইঘুর স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য মুছে ফেলার লক্ষ্যে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়াকে বৃদ্ধাঙ্গুলি প্রদর্শন করে এই হত্যাকা- ঘটানো হয়েছে।

একইভাবে গত ২০১৩ সালের ১৫ ডিসেম্বর চীনা পুলিশ একই ভিত্তিহীন অভিযোগে ১৪ জন উইঘুর মুসলিমকে হত্যা করে। ২০১৩ সালের জুন মাসে ঝিনঝিয়াং অঞ্চলে এক রক্তক্ষয়ী দাঙ্গায় অন্তত ২৭ জন উইঘুর মুসলিম নিহত হন। পুলিশের সাথে এ সহিংসতার ঘটনা ঘটে। আঞ্চলিক রাজধানী উরুমকির ১২০ মাইল দক্ষিণপূর্বাঞ্চলীয় শহর লুককুনে ভোর ৬ টার দিকে এই দাঙ্গার সূত্রপাত হয়। উইঘুর মুসলমানদের অভিযোগের তীর স্থানীয় প্রশাসন এবং হান সম্প্রদায়ের দিকেই ।

এ বছরের ২২ মে ২০১৩ উইঘুর মুসলিম অধ্যুষিত ঝিনঝিয়াং প্রদেশের আঞ্চলিক রাজধানী উরুমকির একটি ব্যস্ততম মার্কেটে বোমা হামলায় ৩১ জন নিহত হয়েছে। এ হামলায় ৯০ জনেরও বেশি লোক আহত হয়। উইঘুর মুসলমান নিহত হলেও চীনা প্রশাসন তাদেরকে এই হামলার জন্য দায়ী করেছে। কিন্তু উইঘুর মুসলমানরা এটাকে তাদের দমন-নিপীড়নের অংশবিশেষ বলে মনে করে। এমনই মন্তব্য উঠে এসেছে বিবিসির প্রতিবেদনে।

শুধু হত্যা আর খুন নয়, বরং তাদের বুদ্ধিজীবীদের গ্রেফতার করে তাদেরকে মনস্তাত্ত্বিকভাবেও চাপে রাখা হয়। তারই ধারাবাহিকতায় এবছর অর্থাৎ ২০১৪ সালের ১৫ জানুয়ারি চীনের পুলিশ খ্যাতনামা উইঘুর মুসলিম

বুদ্ধিজীবী, বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ইলহাম তোহতি ও তার মাকে গ্রেফতার করে। পুলিশ তার বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে তার ব্যক্তিগত কম্পিউটার, মোবাইল ফোন ও বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে সম্পর্কিত কাজগ-পত্র আটক করে। ইলহাম তোহতি বেইজিং ইউনিভার্সিটির ইকোনমিক্সের একজন খ্যাতনামা অধ্যাপক। তার বিরুদ্ধে ‘গুরুতর’ অভিযোগ, তিনি উইঘুর মুসলমানদের পক্ষে কাজ করেন। তেমনিভাবে চীনা কতৃপক্ষের নির্যাতনে আহত তরুণ উইঘুর মুসলিম নারী আইনজীবী গুলনার আব্দুল্লাহ এ বছরের মে মাসের মাঝামাঝি সময়ে মারা যান।

গত সপ্তাহে (২৭ মে) এক গণবিচারে ৫৫ জন উইঘুর মুসলমানকে দ-াদেশ দিয়েছে চীন সরকার। ঝিনঝিয়াং প্রদেশের ঈলি জেলার একটি স্টেডিয়ামে গত মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত এই গণবিচার প্রত্যক্ষ করে প্রায় সাত হাজার স্থানীয় জনতা ও কর্মকর্তারা। খুন, বিচ্ছিন্নতাবাদ ও সন্ত্রাসী সংগঠনের সাথে যুক্ত হওয়ার দায়ে তিনজনকে মৃত্যুদ- ও অন্যদের বিভিন্ন মেয়াদের সাজা দেয়া হয়েছে। একই অভিযোগে আরো ৬৫ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে ঘোষণা করে পুলিশ ।

গত ২০১৩ সালের ২২ আগস্ট কাশগড় প্রিফেকচারে কতৃপক্ষের ভাষায় ‘সন্ত্রাস বিরোধী অভিযানে’ দুই ডজন উইঘুর মুসলিমকে হত্যা করা হয়। ২০১৩ সালের সেপ্টেম্বরের গোড়ার দিকে আকসু প্রিফেকচারের একটি থানার বাইরে পুলিশের গুলিতে নিহত হয় কমপক্ষে ৩ জন মুসলিম ও আহত হয় ২০ জন ।

ধর্মীয় স্বাধীনতায় নগ্ন হস্তক্ষেপ

উইঘুর মুসলমানরা নিজেদের আচার-অনুষ্ঠানের ক্ষেত্রে প্রতিনিয়ত বাধার সম্মুখীন হচ্ছেন। যেমন, পবিত্র রমযান মাসে সরকারি কর্মচারীরা রোজা রাখতে পারবে না, কেউ যদি আইন লঙ্ঘন করে রোজা রাখে, তাকে রোজা ভাঙতে বাধ্য করা হয়। কলেজ ছাত্রদের অবশ্যই সাপ্তাহিক রাজনৈতিক শিক্ষাক্লাসে যোগ দিতে হবে এবং সশস্ত্র পুলিশ কর্মকর্তারা কতৃপক্ষের অনুমোদনবিহীন মাদরাসাগুলোতে যখন ইচ্ছা হানা দিতে পারবে। সবচেয়ে বেশি উসকানিমূলক পদক্ষেপ হচ্ছে, মহিলাদের হিজাব ব্যবহার করা ও পুরুষদের দাড়ি রাখার বিরুদ্ধে প্রচারাভিযান। যেসব ট্যাক্সিচালক বোরকা পরা মহিলাদের গাড়িতে নেবে, তাদের মোটা অংকের জরিমানা করা, মস্তকাবরণ সরাতে অনিচ্ছুক মহিলাদের চিকিৎসা সেবা দিতে ডাক্তারদের বারণ করা। বোরকা পরা মেয়েদের প্রশাসনকর্তৃক বিভিন্নভাবে হেনস্তা করা। সরকারের আরেকটি খারাপ নীতি হচ্ছে মহিলা এবং ১৮ বছরের নিচের কোনো ছেলে মসজিদে যেতে পারবে না। সম্মিলিতভাবে কুরআন-হাদিস অধ্যয়নে সরকারি নিষেধাজ্ঞা এবং ধর্মীয় স্থাপনাগুলো সার্বক্ষণিক থাকে তাদের গোয়েন্দা নজরদারিতে। নামাজ পড়ার কারণে চাকরি চলে গেছে, এরকম ভুরিভুরি নজির আছে ঝিনঝিয়াংয়ের উইঘুর জনপদে। চাকরির ক্ষেত্রেও উইঘুর মুসলমানরা চরম বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন। যা সাম্প্রতিক সময়ে পরিচালিত একটি জরিপ থেকে বোঝা যায় ।

ধর্মীয় ক্ষেত্রে উইঘুর মুসলিমদের প্রতি চীন সরকারের নীতির কঠোর সমালোচনা করে মানবাধিকার সংগঠন অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল বলেছে, ২০০৯ সালের দাঙ্গার পর চীনা সরকারের সমালোচনা করে শান্তিপূর্ণভাবে মতামত প্রকাশের দায়ে চীন সরকার গোপনে বেশ কয়েকজন উইঘুর মুসলিম বুদ্ধিজীবীর বিচার করেছে। তারা আরো বলেছে, ধর্ম নিয়ন্ত্রণ এবং সংখ্যালঘুদের ভাষাশিক্ষা নিষিদ্ধ করার চীনা নীতি ঝিনঝিয়াংয়ে অস্থিতিশীলতার অন্যতম কারণ। মুসলমানরা অভিযোগ করছেন, তাদের স্বকীয়তা ও সংস্কৃতি মুছে ফেলার লক্ষ্যে তাদের নিজস্ব ভূভাগে সন্ত্রাসী হান সম্প্রদায়কে দিয়ে বসতি গড়ে তোলা হচ্ছে। ভূতত্ত্ববিদ আর সংশ্লিষ্টরা বলেছেন, চীনা কর্তৃপক্ষের গৃহীত পদক্ষেপের ফলে ১৯৪০ দশকে ঝিনঝিয়াংয়ের ৫ শতাংশ হান সম্প্রদায় বর্তমানে ৪০ শতাংশে পরিণত হয়েছে এবং সেখানে নিয়মিত মুসলিমবিরোধী দাঙ্গা হয়ে আসছে।

স্বতন্ত্র আবাসভূমির স্বপ্ন

ঝিনঝিয়াংয়ের আয়তন গোটা চীনের আয়তনে এক-ষষ্ঠাংশ। খনিজ ও তেল সম্পদে এ প্রদেশটি বিপুলভাবে সমৃদ্ধ। এখানে তেলের মজুদের পরিমাণ প্রায় ২ হাজার ১শ কোটি টন। উইঘুর মুসলমানরা স্বতন্ত্র আবাসভূমির স্বপ্ন দীর্ঘদিন ধরে লালন করলেও এমন খনিজ ও তেল সম্পদে টইটম্বুর প্রদেশটি সহজে হাতছাড়া করবে চীন, এ ধরনের কল্পনা করাটাও যেন বোকার স্বর্গে বসবাস করার নামান্তর। বরং চীন চাইবে তাদেরকে যেভাবেই হোক চাপ প্রয়োগ করে অথবা অন্য যেকোনো পন্থায় হোক, নিজেদের বশীভূত রাখতে। যদিও তাতে হাজার-হাজার উইঘুর মুসলমানের লাশ পড়ে। নির্যাতিত উইঘুর মুসলমানদের ভবিতব্য কী হয়? সুখ নামক সোনার হরিণ কি ধরা দেবে তাদের হাতে, দুখের লোনা সাগরে হাবুডুবু খেতে হবে তাদের আরো বহুকাল? তা জানতে অপেক্ষা করা ছাড়া কোনো গত্যন্তর নেই।

রুশ ফেডারেশনভুক্ত ১৪টি মুসলিম প্রজাতন্ত্র

0 মন্তব্য(গুলি)

মুসলমানরা একসময় পৃথিবীর পরাশক্তি ছিল। কিন্তু পরে জ্ঞান-বিজ্ঞান, পরিকল্পনা, সমরাস্ত্র ও একতা ইত্যাদিতে তারা অমুসলিম বিশেষত খ্রিষ্টানদের চেয়ে অনেক দুর্বল হয়ে পড়ে। ফলে একসময় হিজায ছাড়া মুসলিম অধ্যুষিত অন্যসব অঞ্চল খ্রিষ্টবাদী ব্রিটিশ, ফ্রান্স, পর্তুগীজ, স্পেন, ইটালী ও রুশদের নিয়ন্ত্রণে চলে যায় এবং এ সময় তারা এসব অঞ্চলে মুসলমানদের উপর গণহত্যাসহ বিভিন্ন ধরণের নিপীড়মূলক ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি নাস্তিক্যবাদ ও ধর্মনিরপেক্ষতার বীজ বপন করে। দীর্ঘদিন পর তা থেকে অনেক এলাকা দেশ আকারে স্বাধীন হলেও অনেক এলাকা এখনো স্বেচ্ছায় বা বাধ্য হয়ে অমুসলিম দেশগুলোর নিয়ন্ত্রণে থেকে যায়। নীচে রুশ ফেডারেশনভুক্ত ১৪ মুসলিম প্রজাতন্ত্রের সংক্ষিপ্ত পরিচয় তুলে ধরা হলো। 

চেচনিয়া  
অবস্থান        ককেশাস অঞ্চল 
সীমান্ত        পূর্বদিকে দাগিস্তান, উত্তরে দাগিস্তান ও স্তাভুরোপুল, দক্ষিণে দাগিস্তান ও জর্জিয়া এবং পশ্চিমে উত্তর ওশেটিয়া। 
রাজধানী       গ্রোজনী 
আয়তন       ১৫৫০০ বর্গ কি: মি: 
জনসংখ্যা      ১,১০৩,৬৮৬ (২০০২) 
মুসলিম        ১০০% 
রাষ্ট্রভাষা       চেচেন, রুশ 
প্রেসিডেন্ট     রমজান কাদিরুভ 
প্রধানমন্ত্রী      . . . . . .

দাগিস্তান 
অবস্থান          ককেশাস অঞ্চল 
সীমান্ত         পূর্বদিকে কাম্পিয়ান সাগর, দক্ষিণে আজারবাইজান, দক্ষিণ-পশ্চিমে জর্জিয়া, পশ্চিমে চেচনিয়া এবং উত্তরে স্তাভুরোপুল অঞ্চল ও কালমিকিয়া প্রজাতন্ত্র। 
রাজধানী       মাহাজকিল্লা 
আয়তন       ৫০৩০০ বর্গ কি: মি: 
জনসংখ্যা      ২৫৭৬৫৩১ (২০০২) 
মুসলিম        ৯৫% 
রাষ্ট্রভাষা       রুশ 
প্রেসিডেন্ট     মুহাম্মদ সালাম মাহমুদুফ 
প্রধানমন্ত্রী      আতা বাশরুভিট আলীফ

ইঙ্গোশেটিয়া 
অবস্থান        ককেশাস অঞ্চল 
সীমান্ত         চেচনিয়া, উত্তর ওশেটিয়া ও জর্জিয়ার মাঝামাঝিতে অবস্থিত। 
রাজধানী       মাগাস 
আয়তন       ৪,০০০ বর্গ কি: মি: 
জনসংখ্যা      ৪৬৭,২৯৪ (২০০২) 
মুসলিম        ৯৯% 
রাষ্ট্রভাষা       ইঙ্গুশ, রুশ 
প্রেসিডেন্ট     মুরাদ মাহমুদুভেচ জিয়া জেকব 
প্রধানমন্ত্রী      তৈমুর আহমুদুভেচ মুগু জেকব

কার্বডিন বলগারিয়া 
অবস্থান        ককেশাস অঞ্চল 
সীমান্ত        পূর্বে উত্তর ওশেটিয়া, পশ্চিমে কারাচাই-সার্কিজিয়া, দক্ষিণে জর্জিয়া ও উত্তরে রাশিয়াভূক্ত অন্য প্রজাতন্ত্র। 
রাজধানী       নলচিক 
আয়তন       ১২৫০০ বর্গ কি: মি: 
জনসংখ্যা      ৯০১,৪৯৪ (২০০২) 
মুসলিম        ৭০% 
রাষ্ট্রভাষা       রুশ, আদিগিয়া, বলগারিয়া 
প্রেসিডেন্ট     আরসিন বাশিরুভিচ কানুকুভ 
প্রধানমন্ত্রী      জুনাদী জুবিন

আদিগিয়া 
অবস্থান        ককেশাস অঞ্চল 
সীমান্ত         ক্রাসনুডার অঞ্চল বেষ্টিত। দক্ষিণ-পূর্বদিক থেকে কৃঞ্চসাগর ও জর্জিয়া এবং পূর্ব দিকে কারাচাই-সার্কিজিয়ার নিকটবর্তী।  
রাজধানী       ম্যাকুব 
আয়তন       ৭৬০০ বর্গ কি: মি: 
জনসংখ্যা      ৪৪৭ ،০০০ (২০০২) 
মুসলিম        ৬৭% 
রাষ্ট্রভাষা       ইঙ্গুশ, রুশ 
প্রেসিডেন্ট     আছলান তাহাচুশিনা 
প্রধানমন্ত্রী      মুরাত কুম্বল

উত্তর ওশেটিয়া 
অবস্থান        ককেশাস অঞ্চল 
সীমান্ত        পূর্বে চেচনিয়া ও ইঙ্গুশেটিয়া, পশ্চিমে কার্বডিন বলগারিয়া, দক্ষিণে জর্জিয়া ও উত্তরে রাশিয়াভুক্ত অন্য প্রজাতন্ত্র। 
রাজধানী       ভালাদি ককাস 
আয়তন       ৮০০০ বর্গ কি: মি: 
জনসংখ্যা      ৭১০২৭৫ (২০০২) 
মুসলিম        ৫৫% 
রাষ্ট্রভাষা       ওশেটি, রুশ 
প্রেসিডেন্ট     তৈমুরাজ মনছুরুভ 
প্রধানমন্ত্রী      আলান বুরাজোভ

কারাচাই-সার্কিজিয়া 
Karachay-Cherkessia 
অবস্থান        ককেশাস অঞ্চল 
সীমান্ত         পশ্চিমে কার্বডিন বলগারিয়া, দক্ষিণে জর্জিয়া ও উত্তরে স্তাভুরোপুল। 
রাজধানী       চার্কেসক Cherkessk  
আয়তন       ৪,০০০ বর্গ কি: মি: 
জনসংখ্যা      ৪৬৭,২৯৪ (২০০২) 
মুসলিম        ৬২% 
রাষ্ট্রভাষা       আদিগিয়া, রুশ 
প্রেসিডেন্ট     মুস্তফা আলীভীচ বাতদীভ 
প্রধানমন্ত্রী      ভিরা মিকাইলুভানা মল্ডুভানুভা

বাশকুরুতুস্তান/বাশকেরিয়া 
অবস্থান        ভলগা অঞ্চল 
সীমান্ত   পশ্চিমে তাতারিস্তান, দক্ষিণে ওরাম্বার্গ, উত্তর ও পূর্বে সাইবেরিয়া। বাশকুরুতুস্তান রুশ ফেডারেশনের এশিয়া ও ইউরোপের সীমান্তে অবস্থিত।    
রাজধানী       ঊভা 
আয়তন       ১৭০৫০০  বর্গ কি: মি: 
জনসংখ্যা      ৩০৫৫১০ (২০০২) 
মুসলিম        ৬১% 
রাষ্ট্রভাষা       বাশকেরি, রুশ 
প্রেসিডেন্ট     রুস্তম হামিটতুভ 
প্রধানমন্ত্রী      . . ,

তাতারিস্তান 
অবস্থান        ভলগা অঞ্চল 
সীমান্ত        পশ্চিমে শোভাচিয়া ও অন্যান্যদিকে রাশিয়াভুক্ত অন্য প্রজাতন্ত্র। তাতারিস্তান এশিয়া থেকে ইউরোপকে বিভক্তকারী ওরাল পর্বতমালার পশ্চিম পাদদেশে অবস্থিত। 
রাজধানী       কাজান 
আয়তন       ৬৭৮৩৬২ বর্গ কি: মি: 
জনসংখ্যা      ৩৭৭৯২৬৫ (২০০২) 
মুসলিম        ৬২% 
রাষ্ট্রভাষা       তাতারি, রুশ 
প্রেসিডেন্ট     মিন্টিমার শায়েমীভ 
প্রধানমন্ত্রী      রুস্তম মনী খানুভ

শোভাচিয়া 
অবস্থান        ভলগা অঞ্চল 
সীমান্ত         পূর্বে তাতারিস্তান, উত্তরে মারিয়েল, দক্ষিণে মর্ডোভিয়া, পশ্চিমে রাশিয়াভুক্ত অন্য প্রজাতন্ত্র। 
রাজধানী       চেবুকসার 
আয়তন       ১৮৩০০  বর্গ কি: মি: 
জনসংখ্যা      ১৩১৩৭৫৪ (২০০২) 
মুসলিম        ৬০% 
রাষ্ট্রভাষা       চোভাস, রুশ 
প্রেসিডেন্ট     নিকুলা ভেচিলিভিস ফিদিরুভ 
প্রধানমন্ত্রী      সিরজী গাবলিুকুভ

মর্ডোভিয়া 
অবস্থান        ভলগা অঞ্চল 
সীমান্ত         উত্তরে শোভিাচিয়া ও অন্যান্যদিকে রাশিয়াভুক্ত অন্য প্রজাতন্ত্র। 
রাজধানী       সারান্সাক 
আয়তন       ২৬২০০ বর্গ কি: মি: 
জনসংখ্যা      ৮৮৮৭৬৬ (২০০২) 
মুসলিম        ৫৬% 
রাষ্ট্রভাষা       মর্ডোভি, রুশ 
প্রেসিডেন্ট     নিকুলা মীর কুশকীন 
প্রধানমন্ত্রী      এন্ডোভ বারান বুর্টোভ

ওডমোর্টিয়া 
অবস্থান        ভলগা অঞ্চল 
সীমান্ত        দক্ষিণে তাতারিস্তান ও অন্যান্যদিকে রাশিয়াভুক্ত অন্য প্রজাতন্ত্র।        
রাজধানী       ইগেভসিক 
আয়তন       ১৭০৫০০ বর্গ কি: মি: 
জনসংখ্যা      ৩০৫৫১০ (২০০২) 
মুসলিম        ৬৩% 
রাষ্ট্রভাষা       আডমুর্টি, রুশ 
প্রেসিডেন্ট     আলেকজান্ডার ভুলকুভ 
প্রধানমন্ত্রী      বুল বেলাকুভ

মারিয়েল 
অবস্থান        ভলগা অঞ্চল 
সীমান্ত        উত্তরে তাতারিস্তান ও শোভাচিয়া এবং  অন্যান্যদিকে রাশিয়াভুক্ত অন্য প্রজাতন্ত্র। 
রাজধানী       ইউশকার ওলা 
আয়তন       ২৩২০০ বর্গ কি: মি: 
জনসংখ্যা      ৭১৩০০০ (১৯৮২) 
মুসলিম        ৬৪% 
রাষ্ট্রভাষা       মারিয়া, রুশ 
প্রেসিডেন্ট     ভেচিলাভ কোলোর্স 
প্রধানমন্ত্রী      বিটার পুলাস

ওরাম্বার্গ-উপলাস্ট  
অবস্থান        ভলগা অঞ্চল 
সীমান্ত         দক্ষিণে বাশকেরিয়া ও অন্যান্যদিকে রাশিয়াভুক্ত অন্য প্রজাতন্ত্র।   
রাজধানী       শাকালুভ 
আয়তন       ১২৪০০০ বর্গ কি: মি: 
জনসংখ্যা      বিশ লক্ষাধিক 
মুসলিম        ৫৪% 
রাষ্ট্রভাষা       ইঙ্গুশ, রুশ

 

এপ্রিল ২০১৩

উইকিপিডিয়া (অ্যারাবিক ভার্সন)


অভিমান

Monday, May 16, 2016

0 মন্তব্য(গুলি)

ছুটেছি তাই সব ছেড়ে আজ গোল্লায় যাক কাজ!
রাগ করেছে সে যে আজ রাগের হেতু কি?
স্বপ্নে সে দেখেছে, তারে দিয়েছি আমি ফাকি!
কান্নার বাধ ভেঙ্গেছে তার দুচোখের কোনে,
বলি আমি" পাগলী, স্বপ্ন কেউ রাখে মনে?"
মানবে না সে কিছুতেই আমার মিথ্যে শান্তনা,
বুকের পাজরে আকরে ধরে তাই নেভায় যন্ত্রনা!
আমি তারে কাছে টেনে নিয়ে দিলাম আশ্বাস,
বাঁচবো না আমি তোমার বিহনে রেখ এই বিশ্বাস!
জয় করতে তোমায় রেখেছিলাম জীবন বাজি,
অবশেষে ভালবাসতে আমায় হয়েছিলে রাজি!
আজ কেন এত ভয়ে তোমার কাটে নির্ঘুম রজনী?
আমি আছি থাকবো তোমার হবে মোর ঘরনী!
কছম, তোমায় বাসি ভালো করি
আমি চিৎকার, হাতে হাত রেখে একবার বলো,

কেন খুঁজি তাহারে

0 মন্তব্য(গুলি)

————————————————–
এই বার্লি গ্রিফিন
দীঘির পাড়ে
আমি আসিগো ফিরে বারে বারে,
প্রিয়াকে হারানোর
বেদনা বিষাদে
বুক ফেটে যায় আজ হাহকারে ।

এই অশান্ত হৃদয়ের
নীরব আধারে
আমি যেন হারিয়েছি কাহারে,
সেই স্বপ্ন হারিয়ে
স্মৃতির মিনারে
আজ কেন খুঁজে ফিরি তাহারে ?

নিশ্চল মনোরম
স্বপ্ন বিজড়িত এই
শান্ত বার্লি গ্রিফিন দীঘির পাড়ে,
নিভৃতে আনমনে
আমার মন শুধু
তোমায় খুঁজে ফিরে বারে বারে ।

অদ্ভুত অপূর্ব এক
স্বপ্ন সেদিন তুমি
একান্তে উপহার দিয়েছিলে মোরে,
নিস্পন্দ চেতনায়
জোনাকির মত
জ্বলে তা এক কুহেলিকার ঘোরে ।

স্বপ্ন

1 মন্তব্য(গুলি)

,

আমি তোমাকে ভুলতে চাই ৷

তোমার গোলাপ পাঁপড়ির ঠোঁট—

বরফ সাদা রঙ—

ভ্রমর কালো চোখ—

ভূবন মোহিনী হাসি— আমাকে পোড়ায় ৷

তোমার আগুন ঢালা রূপের টানে

যতই তোমার কাছে যাই ,

ততই রক্তাক্ত হয় আমার কোমল হৃদয় ৷

তুমি তো ধনীর দুলালী

হবে ধনবানের অন্তঃপুরবাসিনী ৷

দুঃখ দারিদ্র্য তোমাকে উঁকিমেরেও

দেখতে পায়নি কোনোদিন—

পাবেওনা (আশা করি) ৷

আমার ভেসে যাওয়া

উচ্ছল অসচ্ছলতার কূলপ্লাবি স্রোতে ৷

অনটন অনবরত আমার ভাগ্যকে দেয়

শঙ্খচূড়ের চুম্বন ৷

আমার আশার ডালে ডালে

ধরে রয়েছে সব পেয়েছির ডুমুর ফুল— ৷

এর মাঝে তোমাকে কোথায় রাখি ?

আজ গরিব বলে

Sunday, May 15, 2016

0 মন্তব্য(গুলি)

আজ গরিব বলে
বৃষ্টিতে ভেজার আগে
ওষুধ কেনার টাকা আছে কিনা চিন্তা করতে হয়!

আমিও তাদের একজন

0 মন্তব্য(গুলি)

আমিও তাদের একজন
নির্জন এই মন!
একটু শান্তির খুঁজে লেগে থাকা
তুমার ঐ নিশ্বাস....

আধারে আমি একা

0 মন্তব্য(গুলি)

আধারে আমি একা
তাকিয়ে দেখি আকাশ
দেখি আকাশ
আলো জ্বলবে কখন
আলোই আলোকিত করবে আমার
আমার চারি পাশ.....

প্রশ্ন করে নীল ধ্রুবতারা

0 মন্তব্য(গুলি)

আমায় প্রশ্ন করে নীল ধ্রুবতারা
আর কত কাল আমি রব দিশাহারা.....
জবাব কিছুই তার দিতে পারি নাই!!
শুধু পথ খুঁজে কেটে গেল
এ জীবন সারা,
এ জীবন সারা.....

কিছু ভালবাসা অব্যাক্ত থেকে যায়,

0 মন্তব্য(গুলি)

কিছু ভালবাসা অব্যাক্ত থেকে যায়, অভিনয়ের কাছে,
কিছু ভালবাসা স্বার্থপর হয়ে যায়, অভিমানের কাছে,
আর কিছু ভালবাসা অসমাপ্ত থেকে যায়,
স্মৃতির মাঝে, তবুও অপেক্ষায় কেটে যায় সময়......

আকাশে মেঘের আনাগোনা

0 মন্তব্য(গুলি)

আকাশে মেঘের আনাগোনা তার মাঝে আকিঁ আলাপন...
যর বাস্তবতা নেই কোন মিল
ভাবে মন অকারণ সারাক্ষণ...
আবেগী মন জানে না....
এখন আমি কার চোখেতে আকাশ দেখি..?

মেঘের দেশে হারাও আনমনে..

0 মন্তব্য(গুলি)

এখনো কি কবিতা লিখো
আমায় ভেবে ভেবে...
এখনো কি মেঘের দেশে হারাও আনমনে..
আমায় ভেবে ভেবে
বৃষ্টি নাম যখন
তোমার ঐ শরীলে
আমার ছোয়া পাও কি?
বৃষ্টির ফোটার সাথে সাথে......??

তোমার প্রেমেতে আমি

0 মন্তব্য(গুলি)

তোমার প্রেমেতে আমি বুদ
হয়ে রই ...
তুমি মুখ ফিরিয়ে ডাকো
কাকে ঐ ...

কানামাছি মিথ্যা ...
কানামাছি সত্য ...
কানামাছি তুমি আমি যে যার মতো ...